দরিদ্রের চাল গেল আওয়ামীলীগ সম্পাদক ও ইউপি সদস্যের ঘরে

রতন কুমার রায়, স্টাফ রিপোর্টার: সাড়ে তিন বছর হতে সরকারের খাদ্য বান্ধব কর্মসুচির আওতায় তিন জন হতদরিদ্রের চাল ভোগ করার অভিযোাগ উঠেছে নীলফামারীর ডোমার উপজেলার কেতকীবাড়ী  ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারন সম্পাদক কর্মসুচির ডিলার রবিউল ইসলাম স্বাধীন ও দুই নং ওয়ার্ড সদস্য জিয়াউর রহমান বাবুজির বিরুদ্ধে। ঘটনাটি প্রকাশ হলে তারা ওই তিন জন হতদরিদ্রের বাড়িতে চাল পাঠিয়ে দেয়। 
খাদ্য দপ্তর সুত্রে জানা যায়, গত ৩১ অক্টোবর ২০১৬ইং খাদ্য মন্ত্রনালয় ও খাদ্য অধিদপ্তরের খাদ্যবান্ধব কর্মসুচির আওতায় উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে ১৮ হাজার ছয় শত ৮৫ টি কার্ডের মাধ্যমে ১০টাকা কেজি মূল্যে ৩০ কেজি চাল বিক্রয় কার্যক্রম চালু হয়। ওই কর্মসূচির আওতায় কেতকীবাড়ী ইউনিয়নে ১৫ শত কার্ডের বিপরীতে সরকার কতৃক তিন জন নিয়োগকৃত ডিলারের মাধ্যমে হত দরিদ্রদের চাল বিক্রয় করা হচ্ছে। দুই নং ওয়ার্ডের হাটপাড়া গ্রামের জাহেদা, কার্ড নং ২১৬, রশিদ, কার্ড নং ২০৮, জুয়েল, কার্ড নং ১৬৭ নামে ২০১৬ সালের ৩১ অক্টোবর খাদ্যবান্ধব কর্মসুচির কার্ড বরাদ্ধ হয়। তারা জানান, আমরা গবির হওয়ায় সরকারী সহায়তার জন্য প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে ডিলার আওয়ামী লীগ সম্পাদক স্বাধীন ও ইউপি সদস্য জিয়াউর রহমান আমাদের কাছে ভোটার আইডি কার্ড ও ছবি নেয়। কিন্তু আমরা কোন সরকারী সহায়তা পাই নাই। গত রমজান মাসে আমরা মানুষের কাছে জানতে পারি, আমাদের নামে ১০ টাকা কেজি দরের চালের কার্ড হয়েছে। ঈদের কয়েকদিন আগে স্বাধিন ও ইউপি সদস্য জিয়াউর রহমান আমাদের বাসায় ৩০ কেজি করে চাল নিয়ে আসে। আমরা তাদের কাছে জানতে চাই, আমাদের নামে নাকি সাড়ে তিন বছর আগে ১০ টাকা কেজি চালের কার্ড হয়েছে? তারা আমাদের ৩০ কেজি চাল দিয়ে বলে, তোমাদের কোন টাকা দিতে হবে না। খাদ্যবান্ধব কর্মসুচির ডিলার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারন সম্পাদক রবিউল ইসলাম স্বাধীন ও ইউপি সদস্য জিয়াউর রহমান বাবুজি ১০ টাকা কেজি দরের চাল ভোগ করার বিষয়টি অস্বিকার করে জানান, তাদের নামে কার্ড বরাদ্ধ হয়েছে তারাই চাল উত্তোলন করে। এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অধ্যাপক খায়রুল আলম বাবুল বলেন, স্বাধীন ওই হতদরিদ্রদের চাল নেওয়ার বিষয়টি আমার কাছে অস্বিকার করেছে। তবে ওই ঘৃণ্য অন্যায়টির বিচার হওয়া উচিত।  উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মাহমুদ হাসান বলেন, সুবিধাভোগীরা কার্ড না পাওয়ার বিষয়টি শুনেছি। তারা অভিযোগ করলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। প্রসঙ্গত, গত ৩১ অক্টোবর ২০১৬ইং হতে কার্ড তিনটির ১৭ বার ৩০ কেজি করে মোট এক হাজার পাঁচ শত ৩০ কেজি চাল উত্তোলন করা হয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য