সৈয়দপুরে ত্রাণের দাবিতে সড়ক অবরোধ দুই কাউন্সিলরকে ধাওয়া, হামলায় পুলিশ আহত

মিজানুর রহমান মিলন, সৈয়দপুর প্রতিনিধিঃ সৈয়দপুরে ত্রাণের দাবিতে সড়ক অবরোধকারীদের শান্ত করতে গিয়ে এলাকার উচ্ছৃঙ্খল লোকজনের হামলায় ১ জন নারী পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। এ সময় অবরোধকারীরা ওই এলাকার ২ পৌর কাউন্সিলরকে ধাওয়া করেছে। পরে উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানা পুলিশের একটি দল অবরোধকারীদের ত্রাণ দেয়ার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে সৈয়দপুর পৌরসভার ১৩ ও ১৪নং ওয়ার্ডের হানিফ মোড় ও আমিন মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে ১৩ ও ১৪নং ওয়ার্ডে অসহায় মানুষজনের মাঝে ত্রাণ দেয়া হয়নি বলে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই দু’ওয়ার্ডের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার নারী-পুরুষ বাঁশবাড়ী-মিস্ত্রীপাড়া রোডের হানিফ মোড় অবরোধ করে। দীর্ঘ সময় সড়ক অবরোধ চলায় এলাকার লোকজন তাদের শান্ত করার চেষ্টা করে। এ সময় ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ মঞ্জুর আলম ও ১৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবিদ হোসেন লাড্ডান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে অবরোধীকরা উত্তেজিত হয়ে ওঠে। এ সময় ওই এলাকার বাসিন্দা মো. জোবায়দুর রহমান শাহীন, সোহেল আকতারসহ অন্যান্যরা তাদের শান্ত করার চেষ্টা করলে বিক্ষুব্ধ লোকজন কাউন্সিলরকে লাঠিসোটা নিয়ে ধাওয়া করে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অবরোধকারীদের শান্ত হওয়ার আহŸান জানালেও একদল উচ্ছৃঙ্খল লোকজন পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এসময় তারা পুলিশের গাড়িতেও হামলা করে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় পুলিশ সদস্যরা সরে আসে। এ সময় নারী পুলিশ সদস্য কান্ত নিয়তা মুর্মু আহত হয়ে ওই এলাকার একটি বাসায় আশ্রয় নেয়। কিন্তু ত্রাণ না পাওয়ায় বিক্ষুব্ধরা ওই বাড়িতেও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে জোবায়দুর রহমান শাহিন, সোহেল আকতারসহ কয়েকজন বেরিকেড দিয়ে রাখেন। এ সময় ত্রাণ না পাওয়ায় কাউন্সিলর সৈয়দ মঞ্জুর আলম ও আবিদ হোসেন লাড্ডানকে দোষারোপ করেন। ১৪নং ওয়ার্ডের কালাম, ইউসুফ, সালমাসহ অনেকেই অভিযোগ করেন করোনাভাইরাসের কারণে ১ মাস থেকে ওই এলাকার মানুষজন অসহায় হয়ে পড়েছেন। অথচ ত্রাণ দেওয়া তো দূরের কথা ১৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবিদ হোসেন লাড্ডান তাদের খোঁজ খবর পর্যন্ত নেয়নি। তারা বলেন ওই কাউন্সিলর নিজের পছন্দের লোকদের ত্রাণ বিতরণ করে আমাদের বঞ্চিত করেছেন। একই ভাবে অনেকে ত্রাণ না পাওয়ায় ১৪নং ওয়ার্ডের লোকজনের সাথে যোগ দিয়ে ত্রাণের দাবিতে সড়ক অবরোধে অংশ নেয় ১৩ নং ওয়ার্ডের অনেকেই। অবরোধকারীদের কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কাউন্সিলর লাড্ডান যদি মানুষজনের কাছে গিয়ে ত্রাণের বিষয়টি বোঝাতো তাহলে অনাকাক্সিক্ষত এ ঘটনা ঘটতো না। জোবায়দুর রহমান শাহিন ও সোহেল আকতার জানান, তারাসহ অনেকেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছেন। তারা বলেন পুলিশের ওপর হামলা ও কাউন্সিলরদের ধাওয়া করাটা সত্যিই ন্যাক্কারজনক। তারা এ ঘটনার পিছনে কার ইন্ধন রয়েছে তা খতিয়ে দেখার জন্য তদন্ত করার জোর দাবি জানান। এদিকে ১৩ ও ১৪নং ওয়ার্ডে ত্রাণের দাবিতে অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মোখছেদুল মোমিন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাসিম আহমেদ, সৈয়দপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অশোক কুমার পাল, থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবুল হাসনাত খান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে এবং তাদের মাঝে ত্রাণ পৌছে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ব্যাপারে সৈয়দপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অশোক কুমার পালের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ চেষ্টা চালায়। তবে দুই কাউন্সিলরকে ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় পুলিশ সদস্য মুর্মু আহত হয়েছেন। তিনি বলেন পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য