সালিশের দুইঘন্টা পরেই ইঁদুর মারা ওষুধ খেয়ে গৃহবধুর আত্মহত্যা

নীলফামারী প্রতিনিধিঃ নীলফামারীর ডোমারে সালিশের দুই ঘন্টা পরেই মিশু আক্তার(২৭) নামে এক গৃহবধু ইঁদুর মারার ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করেছে।রবিবার(১৯এপ্রিল) সন্ধায় উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের টংবান্ধা আদর্শপাড়া গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটে। নিহত মিশু আক্তার টংবান্ধা আদর্শপাড়া গ্রামের মাওলানা মমিনুর রহমানের স্ত্রী এবং ভোগডাবুড়ি ইউনিয়নের মৃত, মঞ্জু রহমানের মেয়ে। ময়না তদন্তের জন্য তার লাশ পঞ্চগড়ের মর্গে প্রেরন করা হয়েছে।মিশু আক্তারের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার স্বামী মমিনুর রহমান। জানাযায়,বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয় বাবুল হোসেনের ছেলে আলিফ ইসলামকে নিহত মিশু আক্তারের ঘড়ের আশে-পাশে ঘুরাঘুরি করতে দেখেন তার স্বামী মমিনুর রহমান।মমিনুর রহমানকে দেখে পালিয়ে যান আলিফ ইসলাম। পরদিন বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্য বাবুকে জানায় মমিনুর রহমান। রবিবার মমিনুর রহমানের বাড়ীতে বিষয়টি জানতে পেরে মিশুর মা ও চাচা আসেন। সেখানে উপস্থিত হন ইউপি সদস্য বাবু।দুপুরে আলিফের বিষয়টি মমিনুর রহমান তার শাশুড়ী ও চাচা শশুর কে ইউপি সদস্যের সামনে জানালে দুই পক্ষের আলোচনায় বিষয়টি আপোষ-মিমাংসা করে দেন ওই ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য বাবু। ইউপি সদস্য,মা ও চাচা বাড়ী থেকে চলে যাওয়ার দুই ঘন্টা পরেই সকলের অগোচড়ে বাড়ীতে রাখা ইদুর মারা ওষুধ খেয়ে নেন গৃহবধু মিশু আক্তার।বিষয়টি বুঝতে পেরে পরিবারের সদস্যরা তাকে কাছে হওয়ার সুবাধে দেবীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।তার মৃত্যুর খবরে গা-ঢাকা দিয়েছেন আলিফ ইসলাম।এলাকাবাসীর ধারনা আপোষ-মিমাংসায় গৃহবধু মিশুকে মিথ্যে অপবাদ দিয়েছেন সেখানে উপস্থিত থাকা ব্যক্তিরা।তাই তিনি তা মেনে নিতে না পেরেই সালিশের মাত্র দুই ঘন্টার পর আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। সোনারায় ইউনিয়নের ২নং ইউপি সদস্য বাবু বলেন,আলিফের বিষয়টি আমার জানা নেই।আমি মিশু ও তার স্বামীর দীর্ঘদিনের অবনতা মিমাংসা করে দিয়েছি মাত্র তার চাচা সহ।মিমাংসায় ওই গৃহবধুকে মিথ্যে অপবাদ দিয়ে তাকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা হয়েছে কি-না এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন,না মিশুকে কোনো অপবাদ দেয়া হয়নি।আমি সহ সকলে ঘটনাস্থল থেকে চলে আসবার কয়েকঘন্টা পর জানতে পারি সে আত্মহত্যা করেছে। দেবীগঞ্জ থানার ওসি রবিউল হাসান জানান,এ ব্যাপারে দেবীগঞ্জ থানায় একটি ইউডি মামলা হয়েছে এবং মৃতদেহ ময়না তদন্তের জন্য জেলার মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য