কক্সাবাজারে গণধর্ষণের মামলা থেকে রেহাই পেতে নাটকীয় মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
গত ৭ অক্টোবর কক্সবাজার শহরের রিংক রোড এলাকার দক্ষিণ মহুরিপাড়ায় বখাটে কিছু কতিপয় যুবকের হাতে দিবাগত রাতে গণ ধর্ষণের শিকার হয়েছে একই এলাকার বসবাসরত মোঃ ইসমাইল ও রওশন আক্তারের যুবতী কন্য ছেনুয়ারা (১৮)। ধর্ষণের পর ভুক্তভোগী পরিবারের লোকজন জেলা সদর হাসপাতালে ভিকটিমের চিকিৎসা শেষে গত ১০ অক্টোবর ডাক্তারের চিকিৎসাপত্র নিয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় ধর্ষিতার মাতা রওশন আক্তার বাদী হয়ে ধর্ষণে লিপ্ত অপরাধীদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ সনের (সংশোধিত/০৩) এর ৯(৩)/৩০ ধারায় মামলা দায়ের করেন, যাহার নং ২৫/১১০৪। উক্ত মামলায় একই এলাকার মফিজুর রহমানের ছেলে মোঃ নাসির, মৃত লোকমান হাকিমের ছেলে ইয়াবা গড ডন খালেকুজ্জামান, ছৈয়দ আহম্মদের ছেলে আব্দুল্লাহ ও আবুল হাসেমের ছেলে জাকের হোসেন সহ তাদের সহযোগী অজ্ঞাতনামা আরো ২ জনকে আসামী করা হয়। ইতিপূর্বে এজাহার নামীয় ২ জন আসামী মোঃ নাসির ও আব্দুল্লাহ দ্বয়কে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেন।

জানা যায়, এই মামলার আসামীরা মাদক সহ বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামী। এই আসামীরা সদ্য হওয়া ধর্ষণ মামলা থেকে রেহাই পেতে বাদীনি রওশান আক্তারকে বিভিন্ন মাধ্যমে দিয়ে মামলা প্রত্যাহার সহ ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসতেছে। এতে বাদীনি সাড়া না দেওয়ায় এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার জন্য আইনের আশ্রয় নেওয়ায় অপরাধীরা টাকার বিনিময়ে এলাকার বসবাসরত রোহিঙ্গা নাগরিকদের নিয়ে উক্ত মামলার প্রত্যাহারের দাবী জানিয়ে ১৩ আক্টোবর দুপুরে মানবন্ধনের নাটক সাজান। এই মানবন্ধন দেখে সচেতন এলাকাবাসী যেমন হতবাক তেমনি সারা কক্সবাজার জুড়ে এই কথিত নাটকীয় মানববন্ধন নিয়ে ঝড় উঠে। এইভাবে এমন জঘন্য অপরাধীদের বাঁচানোর জন্য এমন হাস্যকর মানবন্ধন অপরাধীদের পক্ষে যেমন অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধির সহায়ক তেমনি অপরাধীরা ভবিষ্যতে আরো জঘন্য ন্যাক্কার জনক ঘটনা ঘটাতে দ্বিদাবোধ করবে না বলে সচেতন মহলের অভিমত। এমন জঘন্য অপরাধীদের পক্ষ নিয়ে যারা এই নাটকীয় মানবন্ধনে অংশগ্রহণ করেন তাদের প্রতি সাধারণ জনতার ঘৃণার ভাব চরমে। ভবিষ্যতে এমন ন্যাক্কার জনক মানববন্ধন করে ধর্ষকেরা আইনের ফাঁক দিয়ে যেন পার না পায় এই কামনা করেন স্থানীয়রা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য