বেতন বৃদ্ধি ও বকেয়া পরিশোধের দাবিতে চলা টানা শ্রমিক আন্দোলনের জেরে রাজধানীর উত্তরার দক্ষিণখান এলাকায় পাঁচটি পোশাক কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬-এর ১৩(১) ধারা অনুযায়ী 'কাজ নাই, বেতন নাই' নীতি অনুসরণ করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত ১৫ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট কারখানাগুলোর পক্ষ থেকে পৃথক নোটিশ জারি করে এই তথ্য জানানো হয়। বন্ধ হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো ভার্সাটাইল অ্যাপারেল প্রাইভেট লিমিটেড, এমব্রেলা লিমিটেড, নাইস অ্যাপারেলস ইন্ডাস লিমিটেড, ড্যাজলিং ড্রেসেস লিমিটেড এবং ওলিও অ্যাপারেলস লিমিটেড। কারখানা কর্তৃপক্ষের নোটিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১২ থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত শ্রমিকদের একটি অংশ বেআইনি ও অনৈতিক ধর্মঘট পালন করেছে, কাজে যোগ দেয়নি এবং কর্মস্থলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। এর ফলে স্বাভাবিক উৎপাদন ব্যাহত হওয়া ছাড়াও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ। দক্ষিণখানের চালাবন এলাকায় অবস্থিত নাইস অ্যাপারেলসের নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে, কিছু শ্রমিক মূল ফটকে বাধা সৃষ্টি করে অন্যদের কাজে যোগদানে বাধা দিয়েছেন। অন্যদিকে ওলিও অ্যাপারেলস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শ্রমিকদের কাজে ফেরাতে সমঝোতার চেষ্টা করা হলেও পরিবেশ স্বাভাবিক হয়নি। এই পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা বিভাগ ছাড়া বাকি সব কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নোটিশের মাধ্যমে তা জানিয়ে দেওয়া হবে। এর আগে গত ১২ অক্টোবর থেকে ন্যূনতম মূল বেতন ৩০ হাজার টাকায় উন্নীত করা, বকেয়া মজুরি প্রদান এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর দাবিতে উত্তরার আজমপুর ও রাজলক্ষ্মী এলাকায় বিক্ষোভ শুরু করেন শ্রমিকেরা। আন্দোলনকারীদের ভাষ্যমতে, নিত্যপণ্যের দাম, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও পড়াশোনার ব্যয় বাড়ায় বর্তমান আয়ে জীবন চালানো দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে, যার কারণে তারা বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমেছেন। বৃহস্পতিবারও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের আজমপুর এলাকায় শ্রমিকেরা বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন, যার ফলে দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে আন্দোলনকারীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬-এর ১৩(১) ধারা অনুযায়ী, বেআইনি ধর্মঘটের কারণে কারখানা বন্ধ থাকলে সংশ্লিষ্ট সময়ে অংশগ্রহণকারী শ্রমিকেরা কোনো মজুরি পাবেন না। তবে যারা ধর্মঘটে অংশ নেননি, তাদের ক্ষেত্রে এই নিয়মে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মজুরি বন্ধের সুযোগ নেই, তাদের ক্ষেত্রে আইনের অন্য বিধান প্রযোজ্য হবে।
বেতন বৃদ্ধি ও বকেয়া পরিশোধের দাবিতে চলা শ্রমিক আন্দোলনের মুখে উত্তরার দক্ষিণখানের পাঁচটি পোশাক কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।



0 মন্তব্যসমূহ