মোঃ আ আল ফয়সাল মিয়া, নীলফামারী:
কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কর্তব্যরত চিকিৎসকের ওপর অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ ও বর্বরোচিত সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে নীলফামারী। দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আজ ১২ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় নীলফামারী শহরের প্রাণকেন্দ্র চৌরঙ্গী মোড়ে এক বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে
নীলফামারী মেডিকেল কলেজ ও ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে হাসপাতালের চিকিৎসক, ইন্টার্ন চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কালো ব্যাজ ধারণ করে অংশ নেন । মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে যোগ দেন স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক, পেশাজীবী ও সুশীল সমাজের সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
জানা যায়, গত ১১ অক্টোবর (রবিবার) দুপুরে নীলফামারী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগে কর্মরত সহকারী অধ্যাপক ডা. রবীন্দ্রনাথ মণ্ডলের ওপর এই হামলার ঘটনা ঘটে । হাসপাতালের দায়িত্ব পালনকালে আলট্রাসনোগ্রাফি রিপোর্ট নেওয়াকে কেন্দ্র করে নাঈম ইসলাম নামের বেসরকারি এক অ্যাম্বুলেন্স চালক চিকিৎসকের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত হন । একপর্যায়ে ওই চালক কর্তব্যরত চিকিৎসকের ওপর অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ ও অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাঁকে লাঞ্ছিত ও মারধর করেন । তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালের অন্যান্য স্টাফ ও উপস্থিত লোকজন হামলাকারী চালককে আটকে পুলিশে সোপর্দ করে । তবে এই ন্যক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে চিকিৎসকদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়, যার ফলশ্রুতিতে আজ সকাল থেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা কর্মবিরতি ও কলম বিরতির ডাক দেন ।
আজকের মানববন্ধন চলাকালীন সমাবেশে বক্তারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "হাসপাতালে দিন-রাত নিরলসভাবে সাধারণ মানুষকে সেবা দিয়ে যাওয়া একজন সম্মানিত চিকিৎসকের ওপর এমন বর্বরোচিত সন্ত্রাসী হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না । নিয়ম মেনে সেবা গ্রহণের কথা বলায় একজন বহিরাগত অ্যাম্বুলেন্স চালক যেভাবে চিকিৎসকের গায়ে হাত তুলেছে, তা গোটা চিকিৎসা ব্যবস্থার জন্য এক কালো অধ্যায় ।" বক্তারা আরও বলেন, এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা চিকিৎসকদের কর্মক্ষেত্রে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
আন্দোলনরত চিকিৎসকেরা অতি দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সম্পন্ন করে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান । একই সাথে তাঁরা হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের কাজের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা দিতে 'স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন' দ্রুত প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি তোলেন ।
সমাবেশ থেকে চিকিৎসকেরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি হাসপাতাল চত্বরে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা জোরদার করা না হয় এবং আটককৃত আসামির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না হয়, তবে চিকিৎসা সেবা সচল রেখেই পরবর্তীতে আরও বৃহত্তর ও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবেন তাঁরা।
চৌরঙ্গী মোড়ে দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই মানববন্ধনের কারণে শহরের প্রধান সড়কে যান চলাচল কিছুটা বিঘ্নিত হলেও সাধারণ মানুষ চিকিৎসকদের এই যৌক্তিক দাবির প্রতি নৈতিক সমর্থন জানান। মানববন্ধন শেষে চিকিৎসকদের একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে হাসপাতাল চত্বরে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।


0 মন্তব্যসমূহ