সৌদি আরবে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের হামলা বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে দেশটি থেকে জরুরি দায়িত্বে নিয়োজিত নন এমন সরকারি কর্মী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সৌদি আরবের বেসামরিক বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় সাম্প্রতিক হামলার ফলে তৈরি হওয়া নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্যে ওয়াশিংটন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এই নির্দেশনার কথা জানান। স্থানীয় সময় বুধবার দেওয়া ওই পোস্টে টমি পিগট বলেন, ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমানভাবে শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে, যার মধ্যে বেসামরিক বিমানবন্দর ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব হামলায় বেসামরিক মানুষের হতাহতের ঘটনা ঘটার পাশাপাশি যাতায়াতব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। এদিকে রয়টার্সকে চার মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সৌদির পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন মিশনগুলো থেকেও কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে। এর আগে উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশের মার্কিন দূতাবাস থেকে কর্মী ও তাদের পরিবারকে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনকে ভুল বলে উল্লেখ করেছিলেন পিগট। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত শুরুর পর তেহরানের পক্ষ থেকে মার্কিন স্থাপনায় হামলা চালানো হলে ওই অঞ্চলের বিভিন্ন স্থান থেকে কূটনীতিকদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে তাদের কয়েকজনকে ফিরিয়ে আনা হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদি আরব থেকে মার্কিন কর্মীদের এই প্রত্যাহারের পেছনে ইয়েমেনে চলমান সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধির বিষয়টি কাজ করেছে। এই সংঘাতের ফলে আঞ্চলিক সংঘাতে নতুন আরেকটি রণক্ষেত্র যুক্ত হয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটানোর পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এদিকে সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী হামলার পর সৌদি আরবে হুতিদের আরও হামলার আশঙ্কায় রিয়াদের মার্কিন দূতাবাস বুধবার নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে রিয়াদ বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন অবকাঠামোয় একাধিক হামলা হয়েছে এবং এর আগে মার্চ মাসের শুরুর দিকে ওই দূতাবাস ও সিআইএর একটি কার্যালয়ে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছিল। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে ব্যাপক পাল্টা হামলা চালিয়েছিল।
নিরাপত্তা উদ্বেগের জেরে সৌদি আরব থেকে জরুরি দায়িত্বে নিয়োজিত নন এমন মার্কিন সরকারি কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ওয়াশিংটন।



0 মন্তব্যসমূহ