সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগর উপজেলার মেঘনা নদীতে নির্বিচারে মা ইলিশ শিকার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় জেলে ও মাছ ব্যবসায়ীদের দাবি, কয়েকটি মাছঘাটে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে একাধিক সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এই কার্যক্রম চলছে এবং এসব সিন্ডিকেটের সঙ্গে ছাত্রদল ও যুবদলের কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততা রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে রামগতি ও কমলনগরের বিভিন্ন মাছঘাটে গিয়ে এর সত্যতা পাওয়া যায়। রামগতির বিবিরহাট, ওছখালী, ব্রিজঘাট, আসলপাড়া, টাঙ্কিরঘাট, আলেকজান্ডার, বালুরচর, বাংলাবাজার এবং কমলনগরের মতিরহাট, নবীগঞ্জ, নাজিরগঞ্জ, মাতাব্বরহাট, লুধুয়া ও পাটারিরহাট এলাকার মেঘনা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকার চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিকেল ও সন্ধ্যার পর থেকে সারারাত ছোট-বড় ও মাঝারি আকারের প্রায় ৩০টি নৌকা নদীতে নেমে মাছ শিকার করে এবং ভোরে ঘাটে ফেরে। রামগতির মান্তাপাড়া এলাকার মাছঘাটসংলগ্ন স্থানে নৌকা পরিচালনার সঙ্গে লক্ষ্মীপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম, বিএনপির কর্মী ডলার নোমান ও হালিম মাঝির সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। এছাড়া কমলনগরের মতিরহাট মাছঘাটে চরকালকিনি ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি হুমায়ুন কবির ও ফারুক হোসেনের নেতৃত্বে নৌকা নিয়ে মা ইলিশ শিকার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মাছ ব্যবসায়ীদের দাবি, জেলের কাছ থেকে টাকা নিয়ে জাহাঙ্গীর আলম, ডলার নোমান ও হালিম মাঝির সিন্ডিকেট তাদের মাছ শিকারে সহায়তা করে এবং পুলিশ ও প্রশাসনকে ম্যানেজ করার দায়িত্ব তারাই পালন করেন। মাছ কিনতে আসা সিরাজ উদ্দিন ও রফিক মাঝি জানান, নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও প্রায় ২০০ ব্যবসায়ী সেখান থেকে নিয়মিত মাছ কেনেন এবং জীবিকার তাগিদে জেলেরা নদীতে নামছেন। এদিকে অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রদল নেতা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, রাজনীতি করার কারণে তার শত্রু পক্ষ থাকতে পারে এবং তিনি এই কাজের সঙ্গে জড়িত নন। রামগতি উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শিবলী নোমান জানান, কেউ রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মাছ শিকারে সহায়তা করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে এবং এতে তাদের কোনো আপত্তি নেই। রামগতির বড়খেরী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ আলী বলেন, জনবল সংকটের মধ্যেও তারা অভিযান চালাচ্ছেন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রামগতি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সৌরভ-উজ-জামান জানান, তিনি অভিযুক্তদের বিষয়ে শুনেছেন, জাহাঙ্গীর আলমকে টেলিফোনে সতর্ক করেছেন এবং কিছু জাল ও নৌকা আটক করা হয়েছে। লক্ষ্মীপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন জানান, বিষয়টি শোনার পর সংশ্লিষ্ট উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, ইলিশের প্রজনন রক্ষার্থে গত ৮ অক্টোবর থেকে আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মেঘনা নদীর নির্দিষ্ট এলাকায় ইলিশ আহরণ, পরিবহন ও বিপণন নিষিদ্ধ করেছে সরকার।
লক্ষ্মীপুরে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মেঘনা নদীতে চলছে মা ইলিশ শিকার। স্থানীয় কয়েকটি ঘাটে সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল ও যুবদলের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে। মৎস্য বিভাগ ও পুলিশ জানিয়েছে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



0 মন্তব্যসমূহ