বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা আজ রোববার উদযাপিত হচ্ছে। বৌদ্ধ ভিক্ষুদের তিন মাসের বর্ষাবাস সমাপনীতে এই উৎসব পালন করা হয়। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বিশ্বাস, এই পূর্ণিমা পালনের মাধ্যমে ভিক্ষু ও গৃহীদের পাপমোচন ঘটে। প্রবারণা পূর্ণিমায় বুদ্ধপূজা, সংঘদান, পিণ্ডদান, অষ্টপরিষ্কার দান, পঞ্চশীল প্রার্থনা, শীল গ্রহণ, প্রদীপপূজা ও ফানুস ওড়ানোর মতো নানা আচার অনুষ্ঠান পালন করা হয়।বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট ফেডারেশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ভিক্ষু সুনন্দপ্রিয় শনিবার রাতে গণমাধ্যমকে জানান, ভগবান বুদ্ধ ভিক্ষু ও অনুসারীদের তিন মাস সাধনা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই অনুযায়ী তারা আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনী পূর্ণিমা পর্যন্ত তিন মাস বর্ষাব্রত পালন করেন এবং এই বর্ষাব্রতের পরিসমাপ্তির দিন হলো প্রবারণা পূর্ণিমা।রাজধানীর মেরুল বাড্ডার আন্তর্জাতিক বৌদ্ধবিহারের আমন্ত্রণপত্রে জানানো হয়েছে, এই পূর্ণিমা তিথিতে ভিক্ষুসংঘের ত্রৈমাসিক বর্ষাবাসের সমাপ্তি ঘটছে এবং আগামী সোমবার থেকে এক মাসব্যাপী কঠিন চীবর দান শুরু হবে।প্রবারণা পূর্ণিমা যথাযথ আড়ম্বর ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে উদযাপনের জন্য রাজধানীর আন্তর্জাতিক বৌদ্ধবিহারে দিনব্যাপী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট ফেডারেশন। তাদের সূচি অনুযায়ী, আজ ভোর সাড়ে ৫টায় সমবেত প্রভাতি বন্দনা, সকাল ৭টা ১০ মিনিটে ভিক্ষুসংঘের প্রভাতি পিণ্ড গ্রহণ, সকাল সাড়ে ৯টায় বুদ্ধপূজা, শীল গ্রহণ ও অষ্টউপকরণসহ মহাসংঘদান অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া বেলা ১১টা ৫ মিনিটে ভিক্ষুসংঘের পিণ্ডদান এবং বিকেল ৪টা ১ মিনিটে পবিত্র ত্রিপিটক থেকে সূত্র পাঠ করা হবে। বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে 'প্রবারণা পূর্ণিমার তাৎপর্য ও বিশ্ব মানবতা' শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তীতে সন্ধ্যা ৬টায় শীল গ্রহণ, আলোকসজ্জা ও ফানুসবাতি উৎসর্গ এবং সাড়ে ৬টায় ফানুস উৎসবের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শেষ হবে।
আজ উদযাপিত হচ্ছে বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা। দিনটি উপলক্ষে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা ধর্মীয় কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।


0 মন্তব্যসমূহ