মার্কিন ডলারের মান কমে যাওয়া এবং নতুন মুদ্রাস্ফীতির তথ্য প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মাঝে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এর জেরে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা ৪৪ মিনিটে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক সাত শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ১৩৪ দশমিক শূন্য আট ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে আগামী ডিসেম্বরের সরবরাহের মার্কিন গোল্ড ফিউচারসের দাম এক দশমিক দুই শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৫৫ দশমিক ৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন সুদের হারের নীতিগত অনিশ্চয়তা স্বর্ণের বাজারে অস্থিরতা তৈরি করছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া বক্তব্যে ক্যাপিটাল ডটকমের জ্যেষ্ঠ আর্থিক বাজার বিশ্লেষক কাইল রোডডা জানান, সুদের হারের অনিশ্চয়তা বাজারে প্রভাব ফেলছে এবং অস্থিরতা বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে, জ্বালানি তেল বা পেট্রোলের দাম বাড়ার কারণে গত সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ ভোক্তাদের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের শেষ দিকে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ৩২ শতাংশ বলে ব্যবসায়ীরা ধারণা করছেন, যা মুদ্রাস্ফীতির নতুন তথ্য প্রকাশের আগে ২২ শতাংশ ছিল। স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর আন্তর্জাতিক বাজারেও মিশ্র প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। রুপার দাম শূন্য দশমিক আট শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫৬ দশমিক শূন্য আট ডলারে উঠেছে এবং প্যালাডিয়ামের দাম এক দশমিক চার শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ১০৮ দশমিক ৭৬ ডলারে পৌঁছেছে। তবে প্ল্যাটিনামের দাম শূন্য দশমিক তিন শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৬০২ দশমিক ৪২ ডলারে নেমেছে। এদিকে দেশের বাজারে বর্তমানে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৮ হাজার ৩১ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ২ লাখ ১৭ হাজার ৭৬৭ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৮৭ হাজার ৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৯৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মার্কিন ডলারের দরপতন ও মূল্যস্ফীতির নতুন তথ্যের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েছে স্বর্ণের দাম। একই সঙ্গে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও মিশ্র প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।



0 মন্তব্যসমূহ