Recents in Beach

ব্রেকিং নিউজ

সীমান্তে লাউডস্পিকার চালুর ঘোষণা উত্তর কোরিয়ার, দক্ষিণ কোরিয়াকে ভয়াবহ পরিণতির হুঁশিয়ারি

সীমান্তে লাউডস্পিকার চালুর ঘোষণা উত্তর কোরিয়ার, দক্ষিণ কোরিয়াকে ভয়াবহ পরিণতির হুঁশিয়ারি

দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তজুড়ে আবারও বিশালাকার লাউডস্পিকার চালুর ঘোষণা দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। একই সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না থামালে সিউলকে সবচেয়ে ভয়াবহ ও যন্ত্রণাদায়ক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে কিম ইয়ো জং জানান, চলতি মাসের শেষ নাগাদ পুরো সীমান্ত এলাকায় দক্ষিণ কোরিয়াবিরোধী লাউডস্পিকার সক্রিয় করা হবে। এর আগে বুধবার রাতে জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে সীমান্তের সেনা দুর্গ ও প্রতিরোধব্যবস্থা পরিদর্শন করেন তিনি। তার অভিযোগ, উত্তর কোরিয়ার কৌশলগত সামরিক ইউনিটগুলো সীমান্তে নতুন অবস্থান নিয়েছে এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সেনারা সীমান্ত অঞ্চলে উসকানিমূলক বার্তা প্রচারের পাশাপাশি একাধিক স্থানে ফাঁকা গুলি ছুড়েছে। তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার সতর্কতামূলক গুলিতে উত্তর কোরিয়ার ভূখণ্ড বা কোনো সেনাসদস্য ক্ষতিগ্রস্ত হলে দক্ষিণ কোরীয় বাহিনীকে বিনা দ্বিধায় ও নির্মমভাবে নির্মূল করা হবে।এদিকে দক্ষিণ কোরিয়া তাদের এই পদক্ষেপকে আইনসম্মত ও আত্মরক্ষামূলক বলে দাবি করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা ও একীভূতকরণ মন্ত্রণালয় উত্তর কোরিয়াকে আলোচনার টেবিলে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, জাতিসংঘ কমান্ডের সহায়তায় অসামরিকীকৃত অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ জোরদারে সিউলের নেওয়া পদক্ষেপ কার্যকর হওয়ার কারণেই কিম ইয়ো জং এমন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। উত্তর কোরিয়া হুমকি বাস্তবায়ন করলে দক্ষিণ কোরিয়াও সমানুপাতিক ও উপযুক্ত জবাব দেবে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই হুঁশিয়ারি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ংয়ের দুই দেশের বৈরিতা কমানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার জন্য বড় ধাক্কা। ১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর থেকেই ডিএমজেড দুই দেশকে পৃথক করে রেখেছে এবং দুই দেশই সীমান্তে প্রচারণার জন্য শক্তিশালী লাউডস্পিকার ব্যবহার করে আসছে। প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং দায়িত্ব নেওয়ার পর আস্থা বাড়ানোর উদ্যোগ হিসেবে গত বছর সীমান্তে লাউডস্পিকারে প্রচার বন্ধ ও স্পিকার সরিয়ে নিয়েছিলেন। এর জবাবে পিয়ংইয়ংও প্রচার বন্ধ রাখলেও আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ২০২৪ সাল থেকে সীমান্তে স্থায়ী দেয়াল নির্মাণ, মাইন স্থাপন ও কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার দুই সেনা গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় সিউল উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করলেও পিয়ংইয়ং তা অস্বীকার করে ঘটনাটিকে বানানো গল্প বলে দাবি করেছে। সিউলের কিউংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লিম উল-চুলের মতে, এই হুমকির অর্থ লাউডস্পিকারগুলো অবিলম্বে চালু হওয়া নয়, তবে এটি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রশাসনের সামনে বড় রাজনৈতিক ও সামরিক দ্বিধা তৈরি করেছে।

সংক্ষেপে:
সীমান্তে লাউডস্পিকার চালুর ঘোষণা দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়াকে ভয়াবহ পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। দুই দেশের চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই ঘোষণা এসেছে।
সীমান্তে লাউডস্পিকার চালুর ঘোষণা উত্তর কোরিয়ার, দক্ষিণ কোরিয়াকে ভয়াবহ পরিণতির হুঁশিয়ারি

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ