মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলায় একই আঙিনায় মসজিদ ও মন্দির অবস্থিত থাকায় দীর্ঘ ৪৬ বছর ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। এখানে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকা পৃথক দুটি উপাসনালয়ে হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায় শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করে আসছেন। ভূয়াই জামে মসজিদ ও ভূয়াই দুর্গামণ্ডপের এই সহাবস্থানে একপাশে ধূপকাঠি ও অন্যপাশে আতরের সুঘ্রাণ ছড়ায়। নিয়ম অনুযায়ী ভূয়াই বাজার দুর্গা মণ্ডপে মুসলমানদের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি টাঙানো থাকে। আজান ও নামাজের প্রথম জামায়াত চলাকালীন মন্দিরের মাইক, ঢাক ও ঢোলের শব্দ বন্ধ রাখা হয়, যা জামায়াত শেষ হওয়ার পর পুনরায় স্বাভাবিক হয়। স্থানীয়রা জানান, উভয় ধর্মের মানুষ দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা বাধা ছাড়াই সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে উৎসব পালন করছেন। ভূয়াই জামে মসজিদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তাকিম আহমদ বাবুল জানান, দুই কমিটি সমন্বয় করে নিজ নিজ ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান সম্পন্ন করে। মসজিদের ইমাম মাওলানা সিরাজ উদ্দিন বলেন, দীর্ঘ ২০ বছর ধরে তিনি এই মসজিদে দায়িত্ব পালন করছেন এবং দুই সম্প্রদায়ের মাঝে কোনো ধরনের দ্বন্দ্ব বা হস্তক্ষেপ নেই। উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও জায়ফরনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুম রেজা উল্লেখ করেন, এই সম্প্রীতি দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসে। ভূয়াই পূজা মণ্ডপের সাধারণ সম্পাদক প্রণয় দাশ ও সভাপতি পিযুষ কান্তি দাস জানান, নামাজে যাতে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে, সে বিষয়ে তারা সবসময় সচেষ্ট থাকেন। জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, দীর্ঘ সময় ধরে দুই ধর্মের মানুষ এখানে সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ রয়েছে। মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, জুড়ী উপজেলার ভূয়াই সার্বজনীন পূজা মণ্ডপটি বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
মৌলভীবাজারের জুড়ীতে একই আঙিনায় মসজিদ ও মন্দিরে ৪৬ বছর ধরে বজায় রয়েছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত।



0 মন্তব্যসমূহ