সৃষ্টিজগতের মধ্যে পরম দয়াময় আল্লাহর আরশ হলো সবচেয়ে পবিত্র, উজ্জ্বল, সম্মানিত ও সর্বোচ্চ স্থান। এর ঠিক ওপরেই রয়েছে আল্লাহর আরশ এবং এর ছাদ হলো আল্লাহর আরশ, যা ফেরদাউসকে বেহেশতের সেরা ও সর্বোচ্চ অংশে পরিণত করেছে। ইবনুল কাইয়িম তাঁর আল-ফাওয়াইদ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, আরশের যত কাছাকাছি কোনো সৃষ্টি বা স্থান থাকে, তা তত বেশি আলোকিত ও মর্যাদাবান হয়। মহানবী (সা.) বলেছেন, কেউ যখন আল্লাহর দরবারে বেহেশত প্রার্থনা করবে, তখন যেন সর্বোচ্চ স্থান ফেরদাউসই প্রার্থনা করে। কারণ এটি বেহেশতের মধ্যবর্তী ও সর্বোচ্চ অংশ এবং এখান থেকেই ঝরনাধারাগুলো প্রবাহিত হয়। জান্নাতুল ফেরদাউসের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলা হয়েছে, সেখানে রয়েছে সোনা-রূপার ইট, সুবাসিত কস্তুরির সিমেন্ট, মুক্তা ও নীলকান্তমণির কাঁকর, জাফরানের শুভ্র মাটি, স্বচ্ছ নদী এবং মণিমুক্তার রাজপ্রাসাদ। মহানবী (সা.)-এর ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে প্রবেশকারীরা চিরকাল চরম আনন্দে থাকবে, তাদের কোনো কষ্ট হবে না, মৃত্যু হবে না, পোশাক পুরোনো হবে না এবং যৌবনও কখনো মিলিয়ে যাবে না। এই সর্বোচ্চ বেহেশত অর্জনের জন্য প্রাত্যহিক জীবনে পাঁচটি বিশেষ আমলের কথা বলা হয়েছে। প্রথম আমলটি হলো সুদৃঢ় ইমান ও সৎকর্ম। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ইমান এনে সৎকাজকারীদের আপ্যায়নের জন্য রয়েছে ফেরদাউস। সাহাবি রবিআ ইবনে কাব আসলামি (রা.) মহানবী (সা.)-এর কাছে বেহেশতে তাঁর সঙ্গ চাইলে নবীজি তাঁকে বেশি বেশি সেজদা করার মাধ্যমে এই কাজে সহায়তা করতে বলেন, যা দ্বিতীয় আমল হিসেবে গণ্য। তৃতীয় আমল হলো এতিমের দায়িত্ব নেওয়া। মহানবী (সা.) বলেছেন, আত্মীয় বা অনাত্মীয় যে-ই হোক, এতিমের দায়িত্ব নিলে তিনি এবং সেই দায়িত্বশীল ব্যক্তি বেহেশতে পাশাপাশি থাকবেন। চতুর্থ আমল হলো কোরআন হিফজ করা, কারণ পরকালে হাফেজদের দুনিয়ার মতো ধীরস্থিরভাবে তিলাওয়াত করতে বলা হবে এবং শেষ আয়াতের স্থানই হবে তাদের জান্নাতের অবস্থান। পঞ্চম আমলটি হলো প্রতিদিন অন্তত তিনবার বেহেশত প্রার্থনা করা। মহানবী (সা.) বলেছেন, কেউ তিনবার বেহেশত চাইলে বেহেশত আল্লাহর কাছে তার প্রবেশের ফরিয়াদ জানায় এবং তিনবার দোজখ থেকে আশ্রয় চাইলে দোজখও আগুন থেকে রক্ষার আবেদন করে। প্রতিদিন মোনাজাতে হিসাব ছাড়া সর্বোচ্চ বেহেশত ফেরদাউস এবং দোজখের আজাব থেকে মুক্তির দোয়া করার মাধ্যমে এই স্থান অর্জনের পথ সুগম করা যায়।
সৃষ্টির সেরা ও সর্বোচ্চ স্থান জান্নাতুল ফেরদাউস অর্জনের জন্য রয়েছে বিশেষ কিছু আমল। মহানবী (সা.)-এর নির্দেশনা অনুযায়ী কোন আমলগুলো করলে এই সৌভাগ্য অর্জন করা সম্ভব, তা জানা যাবে বিস্তারিত প্রতিবেদনে।



0 মন্তব্যসমূহ