মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর, সিরাজদিখান ও টঙ্গিবাড়ী উপজেলায় আলাদা তিনটি স্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত পদক্ষেপে আগুন চারপাশের বাড়িতে ছড়িয়ে পড়া থেকে রক্ষা পেলেও ছয়টি বসতঘর এবং ভেতরে থাকা মূল্যবান জিনিসপত্র ভস্মীভূত হয়েছে। সিরাজদিখানে আগুন নেভাতে সহযোগিতার সময় এক তরুণ আহত হয়েছেন। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রের বিবরণ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা ২০ মিনিটে শ্রীনগর উপজেলার বাঘড়া ইউনিয়নের রুদ্রপাড়া এলাকায় জোর মসজিদসংলগ্ন সালমা বেগমের টিনের ঘরে আগুন লাগে। খবর পেয়ে শ্রীনগর ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কাঠ ও টিনের ঘর হওয়ায় আগুন দ্রুত বাড়লেও তা একটি ঘরেই আটকে রাখতে সক্ষম হন কর্মীরা। প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। এরপর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সিরাজদিখান উপজেলার বাসাইল ইউনিয়নের গুয়াখোলা গ্রামের আলগাপাড়ায় আরেকটি আগুন লাগে। এতে নিয়াশা বেপারী, নাদিম বেপারী ও সোনা মিয়ার তিনটি টিনের ঘর ও ভেতরের আসবাবপত্র পুড়ে যায়। সিরাজদিখান ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নেভায়। এ সময় আগুন নেভাতে গিয়ে ভাঙা টিনের আঘাতে আহাদ হাওলাদার নামে ২০ বছর বয়সী এক স্থানীয় তরুণ আহত হন। তাঁকে সিরাজদিখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। রান্নার লাকড়ির চুলা থেকে এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে। অন্যদিকে, দুপুর সোয়া ১টার দিকে টঙ্গিবাড়ী উপজেলার দিঘিরপাড় ইউনিয়নের দক্ষিণ মুলচর গ্রামের বাবুল বেপারীর বাড়িতে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। টঙ্গিবাড়ী ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট খবর পেয়ে দ্রুত পৌঁছে আধা ঘণ্টার মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এর আগেই দুটি টিনের ঘর, ফ্রিজ, খাট ও আলমারিসহ অধিকাংশ জিনিসপত্র পুড়ে যায়। প্রাথমিক তদন্তের মাধ্যমে জানা গেছে, বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণেই এই আগুন লেগেছিল। পুরো বিষয়টি নিশ্চিত করে মুন্সিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, বেশিরভাগ অগ্নিকাণ্ডই অসাবধানতার কারণে হয়ে থাকে। প্রতিটি স্থানে ফায়ার সার্ভিস দ্রুত পৌঁছানোয় বড় ধরনের বিস্তার রোধ করা গেছে। দুর্ঘটনা এড়াতে বৈদ্যুতিক লাইন নিয়মিত পরীক্ষা এবং রান্নার পর চুলার আগুন পুরোপুরি নিভিয়ে ফেলার বিষয়ে তিনি সবাইকে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর, সিরাজদিখান ও টঙ্গিবাড়ী উপজেলায় পৃথক তিনটি স্থানে অগ্নিকাণ্ডে ছয়টি বসতঘর পুড়ে গেছে। আগুন নেভাতে গিয়ে এক তরুণ আহত হয়েছেন। ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
-6ad9e87c1afb7.webp)


0 মন্তব্যসমূহ