অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানি ও বাণিজ্যের ওপর যুক্তরাজ্যসহ মোট ১২টি দেশ নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসরায়েল। এর অংশ হিসেবে পূর্ব জেরুজালেমে যুক্তরাজ্যের কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। পাশাপাশি ইন্টারন্যাশনাল গাজা সাপোর্ট সেন্টার থেকেও ব্রিটিশ প্রতিনিধিদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড জানিয়েছেন, সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইসরায়েলি দখলদারত্ব বেআইনি হওয়ার বিষয়টি প্রতিফলিত হওয়া উচিত। তিনি উল্লেখ করেন, ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সন্ত্রাসী কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে এবং পশ্চিম তীরের কিছু এলাকায় ফিলিস্তিনিদের জাতিগত নির্মূলের জন্য এরাই দায়ী, অথচ ইসরায়েল সরকার এ বিষয়ে চোখ বন্ধ করে রেখেছে। পণ্য আমদানির পাশাপাশি বসতিগুলোয় নির্মাণকাজ, অবকাঠামো উন্নয়ন বা অর্থায়নে সহায়তা প্রদানকারী কোম্পানিগুলোর ওপর এবং দখলদারত্বকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করে এমন অস্ত্র বিক্রির ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলোর ফলে যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েলের সম্পর্ক কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেছেন লন্ডনে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত হুসাম জোমলট। তিনি ব্রিটিশ সরকারের এই সিদ্ধান্তকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন যে, এই পদক্ষেপ ১৯৬৭ সালের সীমানা অনুযায়ী পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বাধীনতার পথ সুগম করতে সহায়তা করবে। এদিকে ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিষেধাজ্ঞা আরোপকারী দেশগুলোর এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মহলের তীব্র নিন্দা ও বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার চাপে ইসরায়েলিরা উদ্বিগ্ন হয়ে আত্মরক্ষামূলক মনোভাবের দিকে ঝুঁকছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো নেতানিয়াহুর বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা ঠেকানোর বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেওয়ার আগ্রহ দেখাননি।
পশ্চিম তীরে পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞার জেরে পূর্ব জেরুজালেমে যুক্তরাজ্যের কনস্যুলেট বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েল। পাশাপাশি গাজা সাপোর্ট সেন্টার থেকেও ব্রিটিশ প্রতিনিধিদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।



0 মন্তব্যসমূহ