যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় অ্যামাজনের একটি কার্গো বিমান রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। বোয়িং ৭৬৭-৩০০ মডেলের এই বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় অন্তত পাঁচজন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সময় রোববার দুপুর ২টার দিকে পুয়ের্তো রিকোর সান হুয়ান থেকে আসা বিমানটি অবতরণের সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রানওয়ে ছাড়িয়ে যায়। এরপর এটি বিমানবন্দরের পাশের একটি সড়কে গিয়ে বেশ কিছু যানবাহনকে ধাক্কা দেয় এবং এতে আগুন ধরে যায়। মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
অ্যামাজনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিমানটি ২১ এয়ার নামক একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছিল। প্রতিষ্ঠানের মুখপাত্র কেলি ন্যান্টেল জানান, তারা দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা প্রদানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।
মিয়ামি-ডেড ফায়ার রেসকিউয়ের প্রায় ২০০ কর্মী ও ৬০টির বেশি ইউনিট উদ্ধারকাজে অংশ নেয়। উদ্ধারকারীরা জানান, বিমানের পাইলট ও কো-পাইলটসহ বেশ কয়েকজন ব্যক্তি যানবাহনের ভেতরে আটকা পড়েছিলেন। দুর্ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পরও বিমানটি থেকে জ্বালানি লিকের সমস্যা মোকাবিলা করতে হয়েছে উদ্ধারকর্মীদের।
এই দুর্ঘটনার ফলে মিয়ামি বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৬০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল এবং ৩২৫টির বেশি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) ও এফএএ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে বজ্রঝড় ও বাতাসের মতো প্রতিকূল আবহাওয়ার বিষয়টি তদন্তে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি বিমানবন্দরে অ্যামাজনের একটি কার্গো বিমান রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে বিধ্বস্ত হয়েছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ৫ জন নিহত ও ৫ জন আহত হয়েছেন। বর্তমানে উদ্ধার অভিযান ও তদন্ত চলছে।



0 মন্তব্যসমূহ