দেশব্যাপী বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, এই কর্মসূচির আওতায় এখন পর্যন্ত এক কোটি ৮৫ লাখ ৮৩৩ শিশুকে টিকা প্রদান করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সরকারের সবসময় সতর্ক থাকা প্রয়োজন। নিয়মানুযায়ী ২০২০ সালের ২০ ডিসেম্বরের পর প্রতি চার বছরে একবার মহামারির বিরুদ্ধে টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনার কথা থাকলেও, ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত এই কার্যক্রম বন্ধ ছিল। পূর্ববর্তী সরকার ইউনিসেফের ডেলিগেটেড ওয়েতে সরাসরি ক্রয়ের পরিবর্তে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে যেতে চাওয়ায় এবং বিদেশি সংস্থাগুলোর অনুরোধ উপেক্ষা করায় সময়ক্ষেপণ হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এর ফলে চার বছরের যে ঘাটতি তৈরি হয়েছিল, তার খেসারত বর্তমান সরকারকে দিতে হয়েছে বলে জানান তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, এই পরিস্থিতির কারণে অনেক মাকে কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে এবং হামে আক্রান্ত হয়ে প্রায় এক হাজার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একটি শিশুর মৃত্যুও অত্যন্ত বেদনাদায়ক বলে তিনি উল্লেখ করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর চলতি বছরের এপ্রিলের ৫ তারিখ থেকে টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হয় বলে জানান তিনি। প্রথম ধাপে ইউনিসেফ নির্ধারিত তিনটি পর্যায়ে ১৮টি জেলায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হয় এবং পরবর্তী সময়ে ঢাকা ও আরও দুটি বড় সিটি করপোরেশনকে এর আওতায় আনা হয়। নির্ধারিত সময়ের আগে গত ২০ এপ্রিল থেকে দেশজুড়ে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, হামে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে পুষ্টিহীনতা দেখা গেছে এবং পুষ্টির অভাবে শিশুরা দ্রুত নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ফুসফুসে অক্সিজেন সংকটে পড়ছে। আইসিডিডিআরবির চিকিৎসক চিশতি মাত্র ১৫০ টাকা খরচে বোতলভিত্তিক সিপ্যাপ পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে না পারা শিশুদের এই পদ্ধতির মাধ্যমে অক্সিজেন দেওয়া হয়েছে, যা অনেক জীবন বাঁচাতে সাহায্য করেছে। করোনা মহামারিসহ বিভিন্ন জরুরি পরিস্থিতিতে চিকিৎসকদের নিষ্ঠা ও অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, বাংলাদেশ ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় হাম দ্রুত ছড়ানোর ঝুঁকি রয়েছে, কারণ এটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। ভিটামিন এ ক্যাপসুল কর্মসূচিতে দুই কোটি ২৫ লাখ শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও হাম-রুবেলা টিকাদানে এক কোটি ৮৫ লাখ শিশু অংশ নেওয়ায় প্রায় ৪০ লাখ শিশুর ব্যবধান দূর করতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে পূর্বের ক্যাম্পেইন বন্ধ হওয়ার পর থেকে ঈদুল আজহার পর পর্যন্ত আরও প্রায় ১৪ লাখ শিশুকে খুঁজে বের করে টিকা দেওয়া হয়েছে। এরপরও সংক্রমণ পুরোপুরি না থামায় নতুন করে কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ইউনিসেফ দশ দিনের মধ্যে আরও ৪০ লাখ ডোজ টিকা সরবরাহ করেছে। পূর্বের মজুত ও নতুন টিকা মিলিয়ে এবার ৩৪ লাখ শিশুকে লক্ষ্য করে ক্যাচআপ কর্মসূচি শুরু হয়েছে, যার মধ্যে দশ লাখ নতুন জন্ম নেওয়া শিশু এবং বাকি ২৪ লাখ পূর্বে বাদ পড়া শিশু রয়েছে।
দেশব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের আওতায় এখন পর্যন্ত এক কোটি ৮৫ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।



0 মন্তব্যসমূহ