জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দেওয়া ভাষণের তীব্র সমালোচনা করেছেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। গত বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পরপরই প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, ভাষণে ভিত্তিহীন মিথ্যা ছড়িয়ে নিজের অপরাধ ঢাকতে চেয়েছেন নেতানিয়াহু। নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের সমালোচক মামদানি এর আগে গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানার প্রসঙ্গ টেনে তাকে গ্রেপ্তারের আহ্বান জানিয়েছিলেন। জাতিসংঘের ভাষণে ৩৪ বছর বয়সী মুসলিম মেয়র মামদানিকে সরাসরি আক্রমণ করে নেতানিয়াহু তাকে ইহুদিবিদ্বেষী আখ্যা দেন এবং দাবি করেন, তার দায়িত্ব গ্রহণের পর নিউইয়র্কে ইহুদিরা নিরাপদ নন। এর জবাবে মামদানি বলেন, ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো গণহত্যাকে বৈধতা দিতেই জাতিসংঘ মঞ্চকে ব্যবহার করেছেন নেতানিয়াহু। তবে কোনো মিথ্যাই যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির সত্যতা মুছে ফেলতে পারবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। ভাষণে গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে নেতানিয়াহু সেটিকে শতাব্দীর সবচেয়ে বড় মিথ্যা হিসেবে অভিহিত করেন এবং মামদানির স্ত্রী রামা দুয়াজির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি পুরনো প্রসঙ্গও টানেন। জাতিসংঘের ওই ভাষণের সময় উপস্থিত না থেকে নিউইয়র্কে নিজ সরকারি বাসভবনে জলপাইগাছের চারা রোপণ ও গাজার কিছু ফিলিস্তিনি পরিবারের সঙ্গে নৈশভোজের ভিডিও প্রকাশ করেন মামদানি, যার ক্যাপশনে লেখা ছিল আমাদের ভবিষ্যৎ যেন শান্তির হয়। এদিকে মামদানিকে ঘিরে নেতানিয়াহুর এই আক্রমণ জাতিসংঘে সীমাবদ্ধ না থেকে ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনকেও কেন্দ্র করে আলোচনায় এসেছে। লিকুদ পার্টির নির্বাচনী প্রচারণায় মামদানির ছবি ব্যবহার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি ভিডিওর মাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। নেতানিয়াহুর এই রাজনৈতিক কৌশল মার্কিন ও ইসরায়েলি ইহুদিদের নিরাপত্তাকে আরও ঝুঁকিতে ফেলছে বলে মন্তব্য করেছেন মামদানির মিত্র ও ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী ব্র্যাড ল্যান্ডার।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে নেতানিয়াহুর ভাষণের তীব্র সমালোচনা করেছেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্যাতন ও মিথ্যাচারের অভিযোগ তুলেছেন তিনি।



0 মন্তব্যসমূহ