বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ১৩তম আসর চলতি বছর অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে নতুন কাঠামো ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এবারের আসর স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বৃহস্পতিবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তামিম ইকবাল জানান, বিপিএল আয়োজন নিয়ে প্রশাসনিক, আর্থিক ও নীতিগত বিভিন্ন জটিলতা রয়েছে। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর নিয়ম-নীতি পালনে শিথিলতা টুর্নামেন্টটিকে বারবার সংকটের মুখে ফেলছে। তিনি উল্লেখ করেন, রংপুর ও রাজশাহী ছাড়া অধিকাংশ ফ্র্যাঞ্চাইজির কমপ্লায়েন্স ও স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। গত দুই বছরে বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজির নিয়ম ভঙ্গের কারণে বোর্ডের প্রায় ৪০ কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
বিসিবি সভাপতি আরও বলেন, তড়িঘড়ি করে বিপিএল আয়োজনের চেয়ে একটি সঠিক ও টেকসই কাঠামো তৈরি করা জরুরি। বর্তমানে ঘরোয়া ক্রিকেটের জন্য নতুন একটি ফর্মুলা নিয়ে কাজ চলছে, যার ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে বিপিএল স্থায়ীভাবে বন্ধ হচ্ছে না; বরং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের মাধ্যমে টুর্নামেন্টটিকে দর্শকদের জন্য আরও আকর্ষণীয় করে ফিরিয়ে আনা হবে। ইতোমধ্যে নিয়ম লঙ্ঘনকারী ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর আগে ২০১৪ সালে ফিক্সিং এবং ২০২১ সালে মহামারির কারণে বিপিএল স্থগিত হয়েছিল।
ঘরোয়া ক্রিকেটে নতুন কাঠামো বাস্তবায়ন এবং আর্থিক ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে এ বছর বিপিএল আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি। বোর্ড সভাপতি তামিম ইকবাল জানিয়েছেন, দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের লক্ষ্যে এই বিরতি নেওয়া হয়েছে।



0 মন্তব্যসমূহ