কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি বিশেষ অভিযানে ছয়টি অবৈধ ভারতীয় মোটরসাইকেলসহ চোরাচালান চক্রের নয়জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ২৫ মিনিটে বুড়িচং থানার ময়নামতি এলাকার সিলেট-কুমিল্লা মহাসড়কে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন যে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সরকারি শুল্ক ফাঁকি দিয়ে ভারত থেকে অবৈধভাবে মোটরসাইকেল এনে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রির চেষ্টা করছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে ডিবির একটি চৌকস দল ময়নামতি বিদ্যুৎ অফিসের সামনে কৌশলগত অবস্থান নেয়। রাত সোয়া দুইটার দিকে ছয়টি মোটরসাইকেলে নয়জন ব্যক্তি সেখানে পৌঁছালে পুলিশ তাদের থামার সংকেত দেয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালানোর চেষ্টা করলে ডিবি সদস্যরা ধাওয়া করে নয়জনকে আটক করেন। পরে তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলগুলোর বৈধ রেজিস্ট্রেশন বা মালিকানাসংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি তারা।
ডিবি পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা স্বীকার করেছেন যে, তারা পরস্পর যোগসাজশে সিলেটের সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে চোরাইপথে এসব বাইক বাংলাদেশে এনেছেন। এসব মোটরসাইকেল কুমিল্লা, ফেনী ও কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রির পরিকল্পনা ছিল তাদের।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—সিলেটের গোয়াইনঘাট থানার কামিম আহম্মদ (২৮) ও কাওছার হোসেন (২৬), সিলেট কোতোয়ালি থানার আঃ করিম (৩০) ও রাজু আহম্মদ (২৮), জালালাবাদ থানার পাবেল আহম্মদ (২৬) ও হোসাইন (২৩)। এছাড়া সুনামগঞ্জ সদর থানার সাইদুল ইসলাম (২২), দিরাই থানার রিপন চন্দ্র দাস (২৯) এবং ছাতক থানার আবিদুল ইসলাম (২৮) এই চক্রের সাথে জড়িত।
অভিযানে উদ্ধারকৃত মোটরসাইকেলগুলোর মধ্যে রয়েছে চারটি ইয়ামাহা আর-১৫ (Yamaha R15) এবং দুটি ইয়ামাহা এমটি-১৫ (Yamaha MT15) মডেলের বাইক। কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামছুল আলম শাহ অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
কুমিল্লার বুড়িচংয়ে ছয়টি অবৈধ ভারতীয় মোটরসাইকেলসহ চোরাচালান চক্রের নয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। সিলেটের সীমান্ত দিয়ে আনা এসব বাইক দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রির পরিকল্পনা ছিল তাদের।



0 মন্তব্যসমূহ