Recents in Beach

ব্রেকিং নিউজ

বাংলাদেশে উল্লুক ও চশমাপরা হনুমান এখন চরম বিপন্ন: দ্রুত কমছে সংখ্যা ও আবাসস্থল

বাংলাদেশে উল্লুক ও চশমাপরা হনুমান এখন চরম বিপন্ন: দ্রুত কমছে সংখ্যা ও আবাসস্থল

বাংলাদেশের বনাঞ্চল থেকে দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে উল্লুক ও চশমাপরা হনুমান। সম্প্রতি প্রকাশিত ‘প্রাইমেটস ইন পেরিল: দ্য ওয়ার্ল্ডস ২৫ মোস্ট এনডেঞ্জার্ড প্রাইমেটস (২০২৩–২৫)’ শীর্ষক বৈশ্বিক প্রতিবেদনে এই দুই প্রজাতিকে বিশ্বের অন্যতম বিপন্ন প্রাণীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বন উজাড়, অবৈধ দখল, আবাসস্থল ধ্বংস, খাদ্যসংকট, পাচার এবং বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া বা সড়ক দুর্ঘটনার মতো বহুমুখী কারণে এই দুই প্রজাতির প্রাইমেট এখন অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন প্রজন্মে চশমাপরা হনুমানের সংখ্যা প্রায় ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। ২০২৫ সালে জার্মান প্রাইমেট সেন্টারের এক গবেষণায় দেখা গেছে, সিলেটের বনাঞ্চলে মাত্র ৪৮৪টি চশমাপরা হনুমান অবশিষ্ট আছে। বর্তমানে হবিগঞ্জের সাতছড়ি, রেমা-কালেঙ্গা এবং মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া ও পাথারিয়ার মতো কিছু বনে এদের অস্তিত্ব টিকে আছে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী এটি একটি সংরক্ষিত প্রজাতি হলেও বন ছোট হয়ে আসায় এদের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমছে।

অন্যদিকে, উল্লুকের অবস্থাও অত্যন্ত উদ্বেগজনক। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হাবিবুন নাহারের গবেষণা অনুযায়ী, ১৯৮০ সালে বাংলাদেশে উল্লুকের সংখ্যা ছিল প্রায় ৩ হাজার, যা ২০২০ সালে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪৬৮টিতে। তিনি জানান, একসময় দেশের ২২টি বনে উল্লুক পাওয়া যেত, তবে বর্তমানে ১০টি বন থেকে এই প্রজাতিটি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। আবাসস্থল ধ্বংস ও সামাজিক বনায়নকে এই সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তিনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বনের জমি দখল ও গাছ উজাড়ের ফলে বন্যপ্রাণীরা খাদ্যসংকটে পড়ে লোকালয়ে চলে আসছে এবং মানুষের হাতে বা দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছে। সিলেটের বন বিভাগের বিপুল পরিমাণ জমি বর্তমানে বেদখলে রয়েছে, যা বন্যপ্রাণীদের নিরাপদ আশ্রয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে লাউয়াছড়া ও পাথারিয়া হিলস রিজার্ভ ফরেস্টের আয়তন সংকুচিত হওয়া পরিবেশের জন্য বড় হুমকি সৃষ্টি করছে।

সংক্ষেপে:
বাংলাদেশে আশঙ্কাজনক হারে কমছে উল্লুক ও চশমাপরা হনুমানের সংখ্যা। বন উজাড় ও আবাসস্থল ধ্বংসের কারণে এই দুই প্রজাতি এখন বিলুপ্তির পথে। বৈশ্বিক প্রতিবেদনেও এদের বিপন্ন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশে উল্লুক ও চশমাপরা হনুমান এখন চরম বিপন্ন: দ্রুত কমছে সংখ্যা ও আবাসস্থল

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ