কক্সবাজার আইকনিক রেলওয়ে স্টেশন বাংলাদেশের পর্যটন ও রেল যোগাযোগের ক্ষেত্রে একটি বিশাল বিনিয়োগের প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়েছে। ২০২৩ সালে যাত্রা শুরু করা দেশের প্রথম এই গ্রিন রেলওয়ে স্টেশনটি বর্তমানে পর্যটকদের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি রেলপথ প্রতিমন্ত্রী ঢাকা-কক্সবাজার রুটে আরও একজোড়া আন্তঃনগর ট্রেন চালুর ঘোষণা দিয়েছেন। একই সাথে এই আধুনিক স্টেশনটির পরিচালনার দায়িত্ব একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। এই সিদ্ধান্তের ফলে স্টেশনটির ভবিষ্যৎ আয় এবং রাষ্ট্রীয় কোষাগারে এর প্রভাব নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।
ছয়তলা বিশিষ্ট এই বিশাল স্টেশন ভবনে রয়েছে ৩৯ কক্ষের আবাসিক হোটেল, শপিং স্পেস, ফুড কোর্ট, কনফারেন্স হল এবং ভিআইপি লাউঞ্জসহ আধুনিক সব বাণিজ্যিক সুবিধা। ট্রেনের টিকিট বিক্রির পাশাপাশি এসব খাত থেকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় স্টেশনটি পরিচালিত হলে উন্নত রক্ষণাবেক্ষণ ও দক্ষ সেবা নিশ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও, দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রীয় আয়ের ওপর এর প্রভাব কী হবে তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেসরকারি ট্রেনের বিপরীতে সরকারের বার্ষিক আয়ের বিভিন্ন তথ্য প্রচার হলেও সরকারিভাবে এখনও কোনো পূর্ণাঙ্গ আর্থিক কাঠামো প্রকাশ করা হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বেসরকারি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে স্বচ্ছ চুক্তি, সঠিক তদারকি এবং রাজস্ব বণ্টনের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকা জরুরি। রাষ্ট্র নিজে দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এটি পরিচালনা করলে সম্পূর্ণ আয় সরকারি কোষাগারে জমা হতো। তবে সরকারি প্রতিষ্ঠানের সীমাবদ্ধতা ও বেসরকারি খাতের দক্ষতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। শেষ পর্যন্ত এই আইকনিক স্টেশনের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা থেকে প্রাপ্ত সুফল যেন সাধারণ যাত্রী ও দেশের অর্থনীতির সর্বোচ্চ স্বার্থ নিশ্চিত করে, সেটিই এখন বড় প্রত্যাশা।
কক্সবাজার আইকনিক রেলওয়ে স্টেশন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। পর্যটন ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনার এই স্টেশনে বাড়ছে ট্রেনের সংখ্যাও। বিস্তারিত পড়ুন এই প্রতিবেদনে।



0 মন্তব্যসমূহ