ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা, অর্থনৈতিক দুশ্চিন্তা কিংবা সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে দ্বিধাদ্বন্দ্ব থেকে মুক্তি পেতে ইসলামি জীবন দর্শনে ‘প্রজ্ঞা’ বা ‘হিকমা’ অর্জনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞা হলো জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সঠিক ও কল্যাণকর পথ বেছে নেওয়ার এক বিশেষ সক্ষমতা। ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, তিনটি কার্যকর ধাপ অনুসরণের মাধ্যমে এই ঐশ্বরিক প্রজ্ঞা অর্জন করা সম্ভব।
প্রজ্ঞা লাভের প্রথম শর্ত হলো তওবার মাধ্যমে অন্তরকে পাপাচারের কলুষতা থেকে মুক্ত করা। অপরাধ বা পাপে জড়িয়ে পড়লে মানুষের অন্তরে যে কালচে দাগ পড়ে, তা তওবার মাধ্যমে পরিষ্কার করা সম্ভব বলে হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপ হিসেবে পাপ বর্জন ও নিয়মিত আল্লাহর স্মরণের কথা বলা হয়েছে। সকাল-সন্ধ্যার জিকির ও কোরআন তিলাওয়াত মানুষকে শয়তানি বিভ্রান্তি থেকে সুরক্ষা দিয়ে চিন্তার জগতকে স্বচ্ছ রাখে। তৃতীয় ও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো ‘তাফাক্কুর’ বা গভীর ভাবনা। সৃষ্টির রহস্য এবং নিজের জীবনের ভুলত্রুটি নিয়ে নির্জনে আত্মপর্যালোচনা করাকে ইসলামে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কোরআনে এ ধরনের চিন্তাশীল ব্যক্তিদের ‘উলুল আলবাব’ বা বিবেচনাবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। মূলত অন্তর পরিষ্কার রাখা, নিয়মিত জিকির এবং গভীর ভাবনার মাধ্যমেই একজন মুমিন প্রকৃত প্রজ্ঞার অধিকারী হতে পারেন।
জীবনে সঠিক ও কল্যাণকর সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা বা প্রজ্ঞা অর্জনে ইসলামের নির্দেশিত তিনটি কার্যকর ধাপ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তওবা, পাপ বর্জন ও গভীর ভাবনার মাধ্যমে এই বিশেষ গুণ অর্জন সম্ভব।



0 মন্তব্যসমূহ