চীনে উচ্চ বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে দালালরা তাকে নিয়ে গিয়েছিল ভারতে। কিন্তু সেই স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত সিরাজুল ইসলামকে (৫৭) নিয়ে যায় বিদেশের কারাগারে। দীর্ঘ চার বছর ভারতের জেলে সাজা ভোগ করার পর বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে নিজ দেশে ফিরেছেন তিনি। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে ভারতীয় ইমিগ্রেশন পুলিশ ও বিএসএফ তাকে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে। সিরাজুল ইসলাম জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চর মড়িহাট গ্রামের ফরমান আলীর ছেলে।
বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুর রহমান জানান, ২০২২ সালের জানুয়ারিতে দালালের মাধ্যমে বুড়িমারী সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন সিরাজুল। দালালের প্রতিশ্রুতি ছিল তাকে ভারত হয়ে চীনে পাঠানো হবে। তবে ভারতের বিহারে পৌঁছানোর পর দালাল তাকে একা ফেলে পালিয়ে যায়। সেখানে জীবন ধারণের জন্য মাছ ধরার কাজ শুরু করলে ওই বছরের জুলাই মাসে বিএসএফের হাতে ধরা পড়েন তিনি। অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে ভারতীয় আদালত তাকে চার বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন।
বিহারে কারাভোগ শেষে গত সোমবার সিরাজুল মুক্তি পান। এরপর দুই দেশের সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপে ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে তিনি দেশে ফেরার সুযোগ পান। বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করেছে। সেখান থেকে তাকে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছে ‘জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার’ নামের একটি মানবাধিকার সংস্থা। সংস্থাটির এরিয়া কো-অর্ডিনেটর মুহিত চৌধুরী জানান, সিরাজুলকে আপাতত যশোরে তাদের নিজস্ব আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে এবং দ্রুতই তাকে জামালপুরে তার পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
চীনে যাওয়ার প্রলোভনে পড়ে ভারতে চার বছর জেল খেটে অবশেষে দেশে ফিরেছেন জামালপুরের সিরাজুল ইসলাম। বিশেষ ট্রাভেল পারমিটে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে তাকে হস্তান্তর করেছে ভারতীয় পুলিশ ও বিএসএফ।



0 মন্তব্যসমূহ