আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ২০২৬ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর এই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ জানান, স্বচ্ছতা নিশ্চিতে এবার ভোটগ্রহণের পুরো প্রক্রিয়া সরাসরি সম্প্রচার করা হবে এবং গণমাধ্যমকর্মীরাও সেখানে উপস্থিত থেকে কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন।
ইসি সচিব জানান, মঙ্গলবার সকালে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে স্পিকারের সঙ্গে এ বিষয়ে একটি প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্ধারিত দিনে দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ চলবে। ভোটদান পদ্ধতিতে সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসনে অবস্থান করবেন এবং কমিশনের ২০ জন কর্মকর্তা তাদের কাছে ব্যালট পেপার পৌঁছে দেবেন। ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে চিহ্নিত করে নির্ধারিত তিনটি ব্যালট বক্সের যেকোনোটিতে ভোট প্রদান করতে পারবেন।
আখতার আহমেদ আরও জানান, ভোটগ্রহণ শেষে তাৎক্ষণিকভাবে অধিবেশন কক্ষেই গণনা শুরু হবে। মোট ৩৪৯টি ব্যালট গণনা শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) প্রাথমিক ফলাফল ঘোষণা করবেন। পরে সচিবালয় থেকে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করা হবে। এবারের ব্যালট পেপারে মুড়ি অংশ ও মূল অংশ থাকবে, যেখানে ভোটারের নাম ও স্বাক্ষরের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য নির্বাচন কমিশনারগণও উপস্থিত থাকবেন।
উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সহাবুদ্দিন অসুস্থতার কারণে পদত্যাগ করলে পদটি শূন্য হয়। এবার বিএনপি ও জামায়াত জোট প্রার্থী দেওয়ায় ১৯৯১ সালের পর প্রথমবারের মতো একাধিক প্রার্থীর মধ্যে ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এর আগে দীর্ঘ সময় ধরে একক প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে আসছিলেন। দলীয় প্রার্থীর বাইরে ভোট দিলে তা ‘ফ্লোর ক্রসিং’ হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বিষয়টিকে রাজনৈতিক উল্লেখ করে রাজনৈতিক নেতাদের কাছ থেকে জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেন।
আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনের আভাস দিয়ে ইসি সচিব জানিয়েছেন, স্বচ্ছতা নিশ্চিতে এবার ভোটগ্রহণ সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।



0 মন্তব্যসমূহ