যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা স্থবির হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইরান ‘পুরোপুরি আক্রমণাত্মক’ অবস্থানে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তার শর্ত অনুযায়ী চুক্তি না করলে ইরানের সঙ্গে কোনো সমঝোতায় যাবে না ওয়াশিংটন। গত সোমবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরানের আত্মসমর্পণ করা উচিত। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, ইরানের কাছে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারবে না এবং বর্তমানে চলমান কোনো অন্তর্বর্তী চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হবে না। গত জুন মাসে সামরিক অভিযান বন্ধের যে সমঝোতা হয়েছিল, তা ইতিমধ্যে ভেস্তে গেছে বলে দাবি করেন তিনি। সোমবার ওই সমঝোতা স্মারক সইয়ের ৬০ দিন পূর্ণ হয়েছে।
এদিকে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন শর্ত না মানা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে। তেহরানের দেওয়া শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানি সমুদ্রবন্দরের ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার, তেল খাতের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং অবরুদ্ধ সম্পদ মুক্ত করা। হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু করতে ওমান ও ইরানের মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ওমান যদি এই প্রক্রিয়ায় বাধা হয়ে দাঁড়ায় তবে সেখানে বোমা হামলা চালানো হবে। যদিও পরে তিনি কিছুটা নমনীয় সুরে বলেন যে, ওমানের আচরণ ভালো না হলেও এটিও মোকাবিলা করা হবে।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়ছে, যা যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় প্রভাব ফেলছে। আগামী নভেম্বরে দেশটিতে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তবে ট্রাম্প দাবি করেছেন, তার এই রণকৌশলের সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কূটনৈতিক পথ রুদ্ধ হওয়ায় তারা এখন কঠোর অবস্থানের দিকে অগ্রসর হচ্ছেন।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ায় উত্তেজনা বাড়ছে। ট্রাম্প ইরানের আত্মসমর্পণের দাবি জানিয়েছেন, অন্যদিকে শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে তেহরান।



0 মন্তব্যসমূহ