রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার বিমানবন্দর এলাকায় জলাবদ্ধতা ও জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারে ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ নিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক সার্জেন্টরা। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) তদারকির অভাব ও দীর্ঘদিনের অবহেলার কারণে সৃষ্ট তীব্র জনভোগান্তি লাঘবে তারা নিজেরাই কোদাল হাতে ড্রেন পরিষ্কারে নামেন।
জানা গেছে, বিমানবন্দর ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনের ড্রেনটি দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনায় আটকে থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই সেখানে পানি জমে যাচ্ছিল। এতে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে চরম বিঘ্ন ঘটার পাশাপাশি সৃষ্টি হচ্ছিল দীর্ঘ যানজট। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না থাকায় সড়ক ও ট্রাফিক ব্যবস্থার শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গিয়ে সার্জেন্টরা নিজেরাই পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন।
ট্রাফিক পুলিশের এই মানবিক উদ্যোগকে স্থানীয় বাসিন্দা ও চালকরা সাধুবাদ জানালেও সিটি করপোরেশনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক হায়দার বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই এই জায়গায় পানি জমে যায়। যাদের কাজ তারা দায়িত্ব পালন না করায় পুলিশ সদস্যদের কোদাল ধরতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক। তিনি প্রশ্ন তোলেন, সিটি করপোরেশনের কাজ যদি পুলিশকে করতে হয়, তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বেতন কেন দেওয়া হচ্ছে?
পরিচ্ছন্নতায় অংশ নেওয়া এক ট্রাফিক সার্জেন্ট নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ড্রেনে ময়লা আটকে পানি জমে যাওয়ায় গাড়ি ও মানুষ চলাচল অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। বিষয়টি বারবার সংশ্লিষ্টদের জানানো হলেও কোনো ফল না আসায় জনভোগান্তি দেখে তারা আর বসে থাকতে পারেননি। ফলে বাধ্য হয়ে সহকর্মীদের নিয়ে নিজেরাই ড্রেনের আবর্জনা পরিষ্কার করেন যেন পানি নেমে গিয়ে যানজট কমে।
এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, তাদের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার করেন। তবে ব্যস্ত এলাকা হওয়ায় হকার ও পথচারীদের ফেলা প্লাস্টিক বর্জ্যে ড্রেন দ্রুত আটকে যায়। তিনি পুলিশের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে দ্রুত ওই এলাকায় স্থায়ীভাবে ড্রেন সচল করার আশ্বাস দেন। ট্রাফিক পুলিশের এমন দায়িত্ববোধ জনমনে প্রশংসিত হলেও তা নগর ব্যবস্থাপনার দুর্বল চিত্রকেই ফুটিয়ে তুলেছে।
রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকায় জলাবদ্ধতা ও তীব্র যানজট নিরসনে ড্রেন পরিষ্কারে নেমেছেন ট্রাফিক সার্জেন্টরা। সিটি করপোরেশনের অবহেলায় সৃষ্ট জনভোগান্তি দূর করতে পুলিশের এই মানবিক উদ্যোগ প্রশংসিত হচ্ছে।
-6a705a550f0eb.webp)


0 মন্তব্যসমূহ