ইসলাম একটি মানবিক ধর্ম হিসেবে এতিম ও অসহায় শিশুদের লালন-পালনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিলেও বংশপরিচয় ও উত্তরাধিকারের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রদান করেছে। শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, কোনো শিশুকে দত্তক বা পালিত সন্তান হিসেবে লালন-পালন করা মহৎ কাজ হলেও সে জৈবিক সন্তানের মতো উত্তরাধিকারী হিসেবে গণ্য হয় না। পবিত্র কুরআনের সুরা আল-আহযাবের ৪ ও ৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা স্পষ্ট করেছেন যে, পালকপুত্ররা প্রকৃত পুত্র নয় এবং তাদের প্রকৃত পিতার নামেই ডাকা উচিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) হাদিসে নিজের পিতা ছাড়া অন্য কাউকে পিতা দাবি করাকে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। এ বিষয়ে আল্লামা শাওকানি (রহ.) এবং আল্লামা যফর আহমাদ উসমানি (রহ.) ব্যাখ্যা দিয়েছেন যে, পালিত সন্তান শরিয়তের দৃষ্টিতে প্রকৃত সন্তানের সমমর্যাদা বা উত্তরাধিকার লাভ করে না। তবে দত্তকগ্রহণকারী চাইলে জীবদ্দশায় তাকে সম্পদ দান বা হিবা করতে পারেন অথবা মৃত্যুর আগে মোট সম্পদের সর্বোচ্চ এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত ওসিয়ত করতে পারেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) হজরত সাদ ইবন আবি ওয়াক্কাস (রা.)-কে এ বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন। ইসলামি আইন অনুযায়ী, উত্তরাধিকারীদের সম্মতি ছাড়া এক-তৃতীয়াংশের বেশি ওসিয়ত করা বৈধ নয়।
ইসলামে দত্তক সন্তানের লালন-পালন সওয়াবের কাজ হলেও উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে রয়েছে সুনির্দিষ্ট বিধান। কুরআন ও হাদিসের আলোকে পালিত সন্তানের সম্পদের অধিকার ও শরিয়তের নির্দেশনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন।



0 মন্তব্যসমূহ