রাজধানী ঢাকায় শনিবার রাত থেকে শুরু হওয়া প্রবল বৃষ্টিতে নগরজুড়ে চরম জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে পরবর্তী ১২ ঘণ্টায় ঢাকায় ১৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই ভারী বর্ষণে রাজধানীর অধিকাংশ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চালকদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কাজীপাড়া এলাকায় মোটরসাইকেল চালক সোহরাব সরদার জানান, রাস্তায় পানি জমে তার যানটি বিকল হয়ে যাওয়ায় সারাদিনের আয় বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক এলাকায় বাসাবাড়ি ও দোকানে পানি ঢুকে পড়ায় এবং যাতায়াত ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরীক্ষা ও ক্লাস স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত এক দশকে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ঢাকা ওয়াসা ও দুই সিটি করপোরেশন জলাবদ্ধতা নিরসনে অন্তত ২ হাজার ১৪৬ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। ২০১৭ সালে তৎকালীন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং ২০২৩ সালে ঢাকা দক্ষিণের তৎকালীন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস জলাবদ্ধতা দ্রুত নিরসনের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটেনি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান জানান, বিচ্ছিন্নভাবে প্রকল্প নেওয়া হলেও পানি বের হওয়ার মূল পথ বা আউটলেটগুলো সচল না থাকায় এই সংকট কাটছে না।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান এবং দক্ষিণ সিটির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বর্তমান পরিস্থিতির জন্য বিগত সময়ের অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও প্রচারসর্বস্ব বক্তব্যকে দায়ী করেছেন। দক্ষিণ সিটির প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান জানান, বিদ্যমান ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট সীমার বেশি বৃষ্টি হলে পানি সরাতে সময় লাগে। বর্তমানে নিউমার্কেট, গ্রিন রোড, মিরপুর ও মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় নালা ও খালগুলো বর্জ্যে ভরাট হয়ে থাকায় পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সমন্বিত মহাপরিকল্পনা ও খালের প্রবাহ নিশ্চিত করা ছাড়া এই দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।
ঢাকায় ১২ ঘণ্টায় ১৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টিতে সৃষ্টি হয়েছে চরম জলাবদ্ধতা। গত এক দশকে ২১৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ের পরও নগরবাসীর ভোগান্তি কমেনি। পরিকল্পিত উদ্যোগের অভাবে ডুবছে রাজধানী।


0 মন্তব্যসমূহ