হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা নতুন এক সংঘাতময় রূপ নিয়েছে। ইরানের একাধিক সামরিক স্থাপনায় শক্তিশালী বিমান হামলা চালানোর দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। একজন মার্কিন কর্মকর্তার তথ্যমতে, হামলায় ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র, ভূপৃষ্ঠ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, জাহাজবিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের অবস্থান এবং ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি (IRIB) জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী সিরিকের একটি বাণিজ্যিক ডকে শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্রের শার্পনেলের আঘাতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে মিনাব হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, তবে হতাহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা এখনও প্রকাশ করা হয়নি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইরাকের নাজাফ সফর সংক্ষিপ্ত করে তেহরানে ফিরে গেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। তিনি সেখানে প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিতে গিয়েছিলেন।
হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশের বিরোধ এখন তুঙ্গে। ইরান চায় আন্তর্জাতিক জাহাজগুলো তাদের নিয়ন্ত্রিত উত্তরাঞ্চলীয় নৌপথ ব্যবহার করুক, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণাঞ্চলীয় রুট ব্যবহারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এছাড়া মাইন থাকার আশঙ্কায় প্রণালির মাঝের প্রচলিত নৌপথটি বর্তমানে অচল রয়েছে। আগামী ৯ জুলাই মাশহাদ শহরে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। এই পাল্টাপাল্টি হামলা ও উত্তপ্ত অবস্থানের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সামরিক স্থাপনায় শক্তিশালী বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই উত্তেজনার মধ্যেই ইরাক সফর সংক্ষিপ্ত করে তেহরানে ফিরেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান।


0 মন্তব্যসমূহ