সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে কর্মস্থলে দেরিতে উপস্থিত হওয়া বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) ঈশ্বরগঞ্জ আবাসিক প্রকৌশলীর দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। গত রবিবার (১২ জুলাই) সকালে ঈশ্বরগঞ্জ পিডিবি কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সকাল ১০টা পার হয়ে গেলেও অধিকাংশ স্টাফ কর্মস্থলে উপস্থিত হননি। অথচ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৯টার মধ্যে অফিসে উপস্থিত থাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
অফিসের মোট ১২ জন কর্মকর্তার মধ্যে ওই দিন সকালে কেবল উপ-সহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিম, নিম্নমান হিসাব সহকারী মুক্তারুজ্জামান ও লাইনম্যান-এ এবিএম কাইয়ুমকে উপস্থিত পাওয়া যায়। বাকিদের অনুপস্থিতির বিষয়ে উপ-সহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিম জানান, সংশ্লিষ্টদের অফিসে থাকার কথা এবং তারা নিচতলায় থাকতে পারেন। তবে নিচতলায় গিয়ে কেবল লাইনম্যান-এ এবিএম কাইয়ুমের দেখা মেলে।
অনুপস্থিত কর্মীদের অবস্থান জানতে লাইনম্যান কাইয়ুম ফোন করলে ওয়েল্ডার-এ হেদায়েত উল্লাহ জানান তিনি সোহাগী বাজারে আছেন। সাহায্যকারী সাইফুল ইসলাম জানান তিনি ঈশ্বরগঞ্জ বাজার থেকে অফিসের দিকে আসছেন। অন্য এক সাহায্যকারী ঝর্ণা আক্তার জানান তিনি বাড়িতে আছেন এবং ছুটিতে থাকার দাবি করেন। তবে তার ছুটির বিষয়ে উপ-সহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিম ও নিম্নমান হিসাব সহকারী মুক্তারুজ্জামান কিছুই জানেন না বলে জানান।
আবাসিক বিদ্যুৎ প্রকৌশলী হামজা ইমাম বেলা ১১টায় অফিসে এসে জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে সাক্ষাতের কারণে তার দেরি হয়েছে। কর্মস্থলে না থেকে ময়মনসিংহে অবস্থান করার বিষয়ে তিনি জানান, সরকারি কোয়ার্টার না থাকায় তিনি সেখানে থাকেন। এছাড়া জরুরি পরিষেবার দোহাই দিয়ে তিনি প্রজ্ঞাপনের সময়সূচি মানা সম্ভব নয় বলে দাবি করেন।
এ প্রসঙ্গে ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জ বিউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম জানান, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যথাসময়ে উপস্থিত থাকার কোনো বিকল্প নেই এবং অনুপস্থিতদের বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখছেন। ময়মনসিংহ বিউবোর প্রধান প্রকৌশলী গোলাম হায়দার তালুকদার জানান, আবাসিক প্রকৌশলী কর্মস্থলে না থাকার বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সাথে দেখছেন এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।
ঈশ্বরগঞ্জ বিদ্যুৎ অফিসে সরকারি নিয়ম উপেক্ষা করে দেরিতে আসার অভিযোগ উঠেছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। ১০টা বাজলেও অধিকাংশের দেখা মেলেনি কর্মস্থলে। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।



0 মন্তব্যসমূহ