টানা তিন দিনের প্রবল বর্ষণে দেশের বিভিন্ন স্থানে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য তিন জেলাসহ বেশ কিছু এলাকায় অতিবৃষ্টির ফলে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে এবং নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালেও ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহসহ দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে বৃষ্টিপাত অব্যাহত ছিল।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার সকাল ৬ পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের আমবাগান স্টেশনে সর্বোচ্চ ৩২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। এছাড়া কুতুবদিয়ায় ৩০০ মিলিমিটার, চট্টগ্রামে ২৪৯ মিলিমিটার, বান্দরবানে ২৩৫ মিলিমিটার, গোপালগঞ্জে ১৪২ মিলিমিটার, রাঙামাটিতে ১৩০ মিলিমিটার, কক্সবাজারে ১২৫ মিলিমিটার এবং তেঁতুলিয়ায় ১২২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রাখা হয়েছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, বাংলাদেশের ওপর মৌসুমি বায়ু সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় থাকায় আগামী অন্তত দুই দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। তবে পাঁচ দিনের বর্ধিত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, শুক্রবার দেশের কয়েকটি বিভাগে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও পরবর্তীতে বৃষ্টির প্রবণতা ধীরে ধীরে কমে আসতে পারে।
টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে আরও অন্তত দুই দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল।


0 মন্তব্যসমূহ