বিশ্বকাপ ফুটবলের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে এক কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে হ্যারি কেইনের নেতৃত্বাধীন ইংল্যান্ড। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উঁচুতে অবস্থিত এই স্টেডিয়ামে মেক্সিকোর রেকর্ড অত্যন্ত শক্তিশালী, যা যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্য উদ্বেগের কারণ। ১৯৬৬ সালে উদ্বোধনের পর থেকে এই মাঠে খেলা ৮৯টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের মধ্যে ৭০টিতেই জিতেছে মেক্সিকো এবং বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে তারা এখানে হারেনি।
তবে ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, মেক্সিকোর এই বিশাল সাফল্যের অধিকাংশই এসেছে কনকাকাফ অঞ্চলের অপেক্ষাকৃত দুর্বল দলগুলোর বিপক্ষে। ২০০৩ সালের পর ইংল্যান্ডই হতে যাচ্ছে আজতেকায় তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। অন্যদিকে, ইংলিশ সমর্থকদের জন্য এই মাঠটি ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের সেই যন্ত্রণাদায়ক স্মৃতির কথা মনে করিয়ে দেয়, যেখানে দিয়েগো ম্যারাডোনার বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের শিকার হয়ে বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের।
দীর্ঘ ৪০ বছর পর আবারও সেই একই মাঠে দাঁড়িয়ে ইংলিশ কোচ থমাস টুখেল অতীতকে পেছনে ফেলে নতুন ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখছেন। ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে টুখেল রসিকতার ছলে জানিয়েছেন, ম্যারাডোনার সেই ম্যাচের স্মৃতি মুছে ফেলে প্রতিশোধ নেওয়ার এটাই তাদের জন্য সেরা সুযোগ। হ্যারি কেইন ও বুকায়ো সাকাদের সামনে এখন চ্যালেঞ্জ আজতেকার গগনবিদারী গ্যালারির গর্জন থামিয়ে ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখা।
বিশ্বকাপের নকআউটে আজতেকা স্টেডিয়ামে মেক্সিকোর মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড। ম্যারাডোনার সেই স্মৃতি পেছনে ফেলে প্রতিশোধ নিতে মরিয়া কোচ থমাস টুখেল। আজতেকার দুর্গ কি ভাঙতে পারবে ইংল্যান্ড?


0 মন্তব্যসমূহ