মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মহানুভবতা ও ধৈর্যের পরিচয় পেয়ে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন জায়েদ নামের এক তৎকালীন ইহুদি পণ্ডিত। প্রচুর সম্পদের অধিকারী এই পণ্ডিত নবীজির নবুয়তের নিদর্শনগুলো যাচাই করতে গিয়ে নিজেই সত্যের পথে ফিরে আসেন।
জায়েদ জানান, তিনি নবীজির মধ্যে নবুয়তের প্রায় সব নিদর্শন দেখলেও দুটি বিষয় পরখ করা বাকি ছিল। একটি হলো রাগের ওপর তাঁর ধৈর্যের বিজয় এবং অন্যটি হলো মূর্খদের কঠোর আচরণের মুখেও ধৈর্য অটুট রাখা। এই দুটি গুণ পরীক্ষার উদ্দেশ্যে তিনি একবার নবীজিকে ৮০ দিনার ঋণ দেন। ঋণের মেয়াদ শেষ হওয়ার দুই দিন আগেই জায়েদ জনসমক্ষে অত্যন্ত রূঢ়ভাবে নবীজির চাদর টেনে ধরে পাওনা দাবি করেন এবং কুরাইশদের নিয়ে কটু কথা বলেন।
এ সময় নবীজির সঙ্গে হযরত আবু বকর (রা.), হযরত ওমর (রা.) ও হযরত ওসমান (রা.) সহ অন্য সাহাবিরা উপস্থিত ছিলেন। জায়েদের এমন আচরণ দেখে হযরত ওমর (রা.) অত্যন্ত রাগান্বিত হন এবং তাকে কঠোর শাস্তি দেওয়ার কথা বলেন। কিন্তু নবীজি (সা.) মুচকি হেসে ওমরকে শান্ত করেন। তিনি ওমরকে নির্দেশ দেন জায়েদের পাওনা পরিশোধ করে দিতে এবং তাকে ভয় দেখানোর ক্ষতিপূরণ হিসেবে অতিরিক্ত ২০ সের খাদ্যশস্য প্রদান করতে।
নবীজির এমন নজিরবিহীন ধৈর্য ও ইনসাফ দেখে জায়েদ অভিভূত হয়ে পড়েন। তিনি হযরত ওমরকে জানান, মূলত নবীজির চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য পরীক্ষার জন্যই তিনি এমন আচরণ করেছিলেন। এরপর তিনি নবীজির কাছে উপস্থিত হয়ে কালেমা পড়ে ইসলাম গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তিনি নবীজির সঙ্গে বিভিন্ন যুদ্ধেও অংশগ্রহণ করেছিলেন।
মহানবী (সা.)-এর অসীম ধৈর্য ও মহানুভবতায় মুগ্ধ হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন ইহুদি পণ্ডিত জায়েদ। পাওনা আদায়ের উছিলায় নবীজির ধৈর্য পরীক্ষা করতে গিয়ে তিনি সত্যের সন্ধান পান এবং ইসলামে দীক্ষিত হন।


0 মন্তব্যসমূহ