Recents in Beach

ব্রেকিং নিউজ

২০২৬ বিশ্বকাপে নিখুঁত মাঠ নিশ্চিত করতে বিজ্ঞানীদের আট বছরের ঘাস গবেষণার মহাযজ্ঞ

২০২৬ বিশ্বকাপে নিখুঁত মাঠ নিশ্চিত করতে বিজ্ঞানীদের আট বছরের ঘাস গবেষণার মহাযজ্ঞ

ফুটবল বিশ্বকাপের ২০২৬ আসরকে সামনে রেখে মাঠের প্রাকৃতিক ঘাস নিয়ে চলছে নজিরবিহীন বৈজ্ঞানিক কর্মযজ্ঞ। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিতব্য এই আসরের ১০৪টি ম্যাচ নিখুঁত রাখতে গত আট বছর ধরে গবেষণা চালিয়েছেন একদল বিশেষজ্ঞ। ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকায় ঘাসের ত্রুটির কারণে খেলোয়াড়দের ভোগান্তি ও সমালোচনার পর ফিফা এবার মাঠের মান নিয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে।

এই বিশাল কর্মযজ্ঞের নেতৃত্বে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব টেনেসির অধ্যাপক জন সোরোচান। ফিফা তাকে বিশ্বকাপের ১৬টি স্টেডিয়ামের ঘাস উৎপাদন, স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণের পুরো দায়িত্ব দিয়েছে। বিশেষ করে ছাদযুক্ত ইনডোর স্টেডিয়ামগুলোতে সূর্যালোকের অভাব মোকাবিলা করা বিজ্ঞানীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। অধ্যাপক সোরোচান ও তার দল ১৭০টিরও বেশি পরীক্ষা চালিয়েছেন যাতে মাঠের ঘাস বলের গতি বা বাউন্সে কোনো নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে।

গবেষণাগারে কৃত্রিম পা এবং বিশেষ মেশিনের সাহায্যে ঘাসের ওপর বলের আচরণ ও খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার বিষয়টি নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে। আবহাওয়াভেদে ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির ঘাস যেমন বারমুডা, কেন্টাকি ব্লুগ্রাস ও পেরেনিয়াল রাইগ্রাস ব্যবহার করা হচ্ছে। ঘাসকে আরও মজবুত করতে এর গোড়ায় কৃত্রিম প্লাস্টিক ফাইবার যুক্ত করা হয়েছে। মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ট্রে রজার্স এই উদ্যোগকে অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ও উদ্বেগের কাজ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

কলোরাডোর বিশেষ ফার্মে উৎপাদিত এই ঘাস সতেজ রাখতে ব্যবহার করা হচ্ছে উন্নত সার ও প্রযুক্তি। স্টেডিয়ামে সূর্যালোকের বিকল্প হিসেবে শক্তিশালী এলইডি গ্রো লাইট ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। ফিফা এই গবেষণায় প্রায় ৫০ লাখ মার্কিন ডলার ব্যয় করেছে, যার সুফল ভবিষ্যতে সাধারণ খেলার মাঠগুলোতেও পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংক্ষেপে:
২০২৬ বিশ্বকাপের ১০৪টি ম্যাচ নিখুঁত করতে বিজ্ঞানীদের আট বছরের ঘাস গবেষণার বিস্তারিত। কোপা আমেরিকার ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ফিফার ৫০ লাখ ডলারের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ