প্রশান্ত মহাসাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন থেকে সফলভাবে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে চীন। সোমবার (৬ জুলাই) স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ১ মিনিটে দেশটির পিপলস লিবারেশন আর্মি নেভি এই মহড়া সম্পন্ন করে। চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া জানিয়েছে, এই পরীক্ষায় একটি নকল ওয়ারহেডযুক্ত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে যা নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। বেইজিং এই ঘটনাকে নিয়মিত সামরিক প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে দাবি করলেও জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড এ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওয়াং জানান, বেইজিং আগে থেকে এই পরীক্ষার বিষয়ে অবহিত করলেও এটি ওই অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি। ফিজির রাজধানী সুভায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, চীন দ্রুত সামরিক সক্ষমতা বাড়ালেও তাদের উদ্দেশ্য নিয়ে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। উল্লেখযোগ্য যে, অস্ট্রেলিয়া ও ফিজির মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই চীন এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালায়।
নিউজিল্যান্ডের জাহাজ ট্র্যাকিং প্রতিষ্ঠান স্টারবোর্ড মেরিটাইম ইন্টেলিজেন্সের বিশ্লেষক মার্ক ডগলাস এই পরীক্ষার সময়কালকে অত্যন্ত কৌতূহল উদ্দীপক বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং জানিয়েছেন, তারা আশা করেন সংশ্লিষ্ট দেশগুলো দ্বীপ রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্বকে সম্মান জানাবে এবং তৃতীয় কোনো পক্ষের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করা থেকে বিরত থাকবে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার নিয়ে পশ্চিমা শক্তি ও বেইজিংয়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রতিযোগিতা বিদ্যমান রয়েছে।
প্রশান্ত মহাসাগরে পারমাণবিক সাবমেরিন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে চীন। এই ঘটনায় জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্লেষকরা।


0 মন্তব্যসমূহ