যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাত শুরু হয়েছে। গত মঙ্গলবার ও বুধবার দুই রাতে ইরানের ১৭০টি লক্ষ্যবস্তুতে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। গত ১৭ জুন উভয় পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর পর এটিই ছিল সবচেয়ে বড় পরিসরের হামলা। এই পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে দুই দেশের মধ্যকার সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং শান্তিপ্রক্রিয়া এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগপ্রধান হোসেন কেরমানপোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, ৭ ও ৮ জুলাই ইরানের পাঁচটি প্রদেশে মার্কিন হামলায় ১৪ জন নিহত এবং ৭৮ জন আহত হয়েছেন। আল-জাজিরার তথ্যমতে, হামলায় তেহরানের সঙ্গে যুক্ত রেলপথের দুটি সেতু এবং ইরান-তেহরান রেল করিডর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া বুশেহরে পারমাণবিক স্থাপনার কাছে এবং আইআরজিসির অ্যারোস্পেস স্থাপনায় আগুনের খবর পাওয়া গেছে।
মার্কিন হামলার জবাবে ইরানও পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে। বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এ ছাড়া কুয়েত ও কাতারকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরানি বাহিনী। জর্ডান এসব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করেছে।
অর্থনীতিবিদ জাভেদ হাসান মনে করেন, উভয় পক্ষই সংঘাতের পরবর্তী ধাপের জন্য নিজেদের শক্তিশালী করতে যুদ্ধবিরতির সুযোগ নিয়েছিল। তিনি জানান, ইরান এই সময়ে তেল রপ্তানি সচল করে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি ডলার সঞ্চয় করেছে। অন্যদিকে, আল-জাজিরার সাংবাদিক মাইক হান্না জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি শেষ বলে ঘোষণা করেছেন। তবে কংগ্রেসের কয়েকজন রিপাবলিকান সদস্য ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সীমিত করতে ভোট দেওয়ায় অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপও রয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই সংঘাত নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
যুদ্ধবিরতি ভেস্তে দিয়ে ইরানে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দুই রাতে ১৭০টি লক্ষ্যবস্তুতে মার্কিন আক্রমণের জবাবে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। দুই দেশের এই সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।


0 মন্তব্যসমূহ