Recents in Beach

ব্রেকিং নিউজ

কালিদাসের মেঘদূত থেকে আধুনিক কবিতা ও উপন্যাস পর্যন্ত বাংলা সাহিত্যে বর্ষার চিরন্তন রূপ

কালিদাসের মেঘদূত থেকে আধুনিক কবিতা ও উপন্যাস পর্যন্ত বাংলা সাহিত্যে বর্ষার চিরন্তন রূপ

বাংলা সাহিত্যে বর্ষা ঋতু এক অনন্য ও অবিচ্ছেদ্য স্থান দখল করে আছে। মহাকবি কালিদাসের অমর সৃষ্টি ‘মেঘদূত’ থেকে শুরু করে আধুনিক যুগের কবিতা ও উপন্যাসে বর্ষার রূপ বৈচিত্র্যময়ভাবে ফুটে উঠেছে। চতুর্থ বা পঞ্চম শতকের কবি কালিদাসের মেঘদূত কাব্যে বিরহী যক্ষ মেঘকে দূত হিসেবে গ্রহণ করে অলকাপুরীতে প্রিয়ার কাছে বার্তা পাঠায়, যা আজও সাহিত্যের এক জীবন্ত আখ্যান হিসেবে বিবেচিত। মধ্যযুগের বৈষ্ণব পদাবলিতে চণ্ডীদাস, বিদ্যাপতি, জ্ঞানদাস ও গোবিন্দদাসের লেখনীতে বর্ষা এসেছে রাধা-কৃষ্ণের প্রেম ও বিরহের তীব্র অনুষঙ্গ হিসেবে। অন্যদিকে, মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর চণ্ডীমঙ্গলে ফুল্লরার বারোমাসিতে বর্ষা ধরা দিয়েছে দারিদ্র্য ও জীবন সংগ্রামের এক রূঢ় বাস্তবতায়।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যে বর্ষা কেবল একটি ঋতু নয়, বরং তা মানবমনের গভীর অনুভূতির প্রতীক। ‘সোনার তরী’ থেকে শুরু করে অসংখ্য গান, কবিতা ও প্রবন্ধে তিনি বর্ষার সজীবতা, মিলন ও বিরহকে তুলে ধরেছেন। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম বর্ষাকে দেখেছেন প্রেম ও বেদনার ঋতু হিসেবে, যেখানে ‘বর্ষা বিদায়’ বা ‘ইন্দ্র-পতন’ কবিতায় বৃষ্টির ভিন্ন রূপ ফুটে উঠেছে। জীবনানন্দ দাশের কবিতায় বর্ষা এসেছে বাংলার রূপসী প্রকৃতির স্নিগ্ধতায়। আধুনিক কবিদের মধ্যে শহীদ কাদরী নাগরিক বৃষ্টির চিত্র এঁকেছেন এবং আবুল হাসান বৃষ্টির নস্টালজিক ও করুণ রূপ ফুটিয়ে তুলেছেন। এছাড়া রফিক আজাদের কবিতায়ও বর্ষার বিশেষ দ্যোতনা পাওয়া যায়। কেবল কবিতা নয়, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, অদৈত মল্লবর্মণ, আবু ইসহাক ও সৈয়দ শামসুল হকের মতো কথাসাহিত্যিকদের উপন্যাসেও বর্ষার প্রভাব ও প্রকৃতির মাধুর্য অত্যন্ত জোরালোভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

সংক্ষেপে:
কালিদাসের মেঘদূত থেকে রবীন্দ্রনাথ-নজরুল হয়ে আধুনিক সাহিত্য পর্যন্ত বর্ষার চিরন্তন আবেদন ও রূপবৈচিত্র্য নিয়ে এই বিশেষ আয়োজন। বাংলা সাহিত্যের পরতে পরতে মিশে আছে বৃষ্টির গান ও বিরহের আখ্যান।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ