ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও তরুণের বিক্ষোভে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে সংসদ ভবন এলাকা। সোমবার বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনে অনলাইনভিত্তিক সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) ডাকে এই নজিরবিহীন আন্দোলন শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে সংসদ ভবনের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। এতে বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী ও পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
আন্দোলনকারীরা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনড় ছিলেন। এর আগে অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুক যন্তর মন্তরে ২০ দিন ধরে অনশন করার পর ১৮ জুলাই পুলিশ তাঁকে জোরপূর্বক সরিয়ে দিলে বিক্ষোভ আরও তীব্র আকার ধারণ করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। এছাড়া বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়ালও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। একপর্যায়ে সরকারের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা বিক্ষোভকারীদের প্রতিনিধি সৌরভ দাসের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং কর্মসূচি প্রত্যাহার করে প্রশাসনকে সহায়তার অনুরোধ জানান।
দিল্লির উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসিপি) শচীন শর্মা জানান, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার জন্য কয়েক দফা প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে উত্তর প্রদেশের আজমগড় থেকে আসা নীতীশের মতো সাধারণ বিক্ষোভকারীরা প্রশ্নপত্র ফাঁসের জন্য সরকারের সরাসরি জবাবদিহি দাবি করেছেন। এই আন্দোলনে রাজস্থানসহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা মানুষের পাশাপাশি চন্দ্রশেখর আজাদের আজাদ সমাজ পার্টি (কাশিরাম), আম আদমি পার্টি ও সমাজবাদী পার্টির সমর্থন লক্ষ্য করা গেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন ও ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখা হয়েছে।
দিল্লিতে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে সংসদ ভবন ঘেরাও করেছেন হাজারো শিক্ষার্থী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে। সরকার বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে।



0 মন্তব্যসমূহ