পার্বত্য চট্টগ্রামে বন সুরক্ষার কাজে নিয়োজিত পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ভূমির আনুষ্ঠানিক অধিকার না থাকায় তারা আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। লেখক ও সাংবাদিক খলিলউল্লাহ্র এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আদিবাসী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কার্যকর বন ব্যবস্থাপনার আইনি স্বীকৃতি না থাকলে বৈশ্বিক অর্থায়ন পাওয়া প্রায় অসম্ভব। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, আদিবাসীদের সংরক্ষিত এলাকায় বন উজাড়ের হার বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে প্রায় ২৬ শতাংশ কম। অথচ আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিলের মাত্র ১ শতাংশের কম অর্থ এসব জনগোষ্ঠীর ভূমি ব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট কর্মসূচিতে ব্যয় হয়। পার্বত্য চট্টগ্রামে বর্তমানে দ্বৈত ভূমি ব্যবস্থাপনা বিদ্যমান। একদিকে ১৯০০ সালের ব্রিটিশ আমলের রেগুলেশন অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের প্রশাসনিক কর্তৃত্ব, অন্যদিকে প্রথাগত সার্কেল প্রথা কার্যকর রয়েছে। চাকমা, বোমাং ও মং সার্কেলের অধীনে হেডম্যান ও কারবারিরা মৌজা বন বা ভিলেজ কমন ফরেস্ট (ভিসিএফ) ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। ১৯৯৭ সালের শান্তিচুক্তি এবং ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন গঠিত হলেও পাহাড়ে ভূমির মালিকানা নিয়ে জটিলতা ও সংঘাত এখনো কাটেনি। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বন সুরক্ষায় পাহাড়িদের ভূমির আইনি অধিকার নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক আইসিসিএ রেজিস্ট্রিতে মৌজা বনগুলোর নিবন্ধন করা জরুরি। ২০৩০ সালের মধ্যে বন বিনাশ বন্ধের বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আদিবাসী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ভূমির অধিকার নিশ্চিত করাকে একমাত্র কার্যকর পথ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামে বন সুরক্ষায় পাহাড়িদের ভূমির অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। আইনি মালিকানা না থাকায় তারা বৈশ্বিক জলবায়ু তহবিল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বন রক্ষা ও যৌথ ভবিষ্যতের জন্য এই অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।



0 মন্তব্যসমূহ