খাগড়াছড়ির রামগড়ে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য বরাদ্দকৃত চালের পরিবর্তে নামমাত্র নগদ টাকা প্রদানের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এস এম এ করিমের বিরুদ্ধে এই অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা।
জানা গেছে, খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক রামগড় উপজেলার ২৭টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ২৭ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, বরাদ্দপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে এক মেট্রিক টন চালের পরিবর্তে মাত্র ৭ থেকে ৯ হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২টি মসজিদ ও নূরানী মাদ্রাসাকে ৯ হাজার টাকা করে এবং ১০টি মন্দির ও বৌদ্ধ বিহারকে ৭ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া একটি মাদ্রাসাকে ২০ হাজার টাকা প্রদানের তথ্য পাওয়া গেছে।
রামগড় পৌরসভার তালিমুল কুরআন নূরানী মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন জানান, তার মাদ্রাসার নামে এক টন চাল বরাদ্দ থাকলেও পিআইও এক শিক্ষককে ডেকে মাত্র ৯ হাজার টাকা দিয়েছেন। একই ধরনের অভিযোগ করেছেন বালুখালি বাহারুল উলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার সভাপতি ওসমান গণি, বলিটিলা তালিমুল কুরআন মাদ্রাসার সভাপতি আবু বক্কর এবং সোনাইআগা কালী মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি ধনঞ্জয় ত্রিপুরা।
তবে অভিযুক্ত পিআইও এস এম এ করিম এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই চাল উত্তোলন করা হয় এবং অন্য কারো পক্ষে তা সংগ্রহ করা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী শামীম জানান, প্রাথমিক তদন্তে পিআইওর সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং সত্যতা নিশ্চিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খাগড়াছড়ির রামগড়ে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য বরাদ্দকৃত এক টন চালের পরিবর্তে মাত্র ৭-৯ হাজার টাকা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পিআইওর বিরুদ্ধে। ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা মেলায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে প্রশাসন।
-6a4a63dd53514.webp)

0 মন্তব্যসমূহ