ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে সততা ও স্বচ্ছতার এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। উপজেলার আটঘর, রামকান্তপুর ও সোনাপুর ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার দীর্ঘ খাল পুনঃখননের কাজ শেষে অব্যয়িত ৭৩ লাখ ৩৬ হাজার ৩৬৫ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
জানা গেছে, মৃতপ্রায় খালগুলোতে প্রাণ ফিরিয়ে আনা, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার ১ কোটি ৬৭ লাখ ৪৯ হাজার ৪০৯ টাকা বরাদ্দ দিয়েছিল। নির্ধারিত মান বজায় রেখে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার পর শ্রমিকের মজুরি ও অন্যান্য সব ব্যয় মিটিয়ে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় হয়। অনিয়ম বা অপচয়ের পথে না হেঁটে সালথা উপজেলা প্রশাসন বিধি মোতাবেক পুরো টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেয়।
এই মহতী উদ্যোগের নেপথ্যে ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন। তিনি প্রকল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিয়মিত তদারকি করেছেন এবং ব্যয়ের প্রতিটি খাত নিজে যাচাই করেছেন। ইউএনও দবির উদ্দিন মনে করেন, সরকারি অর্থ জনগণের আমানত এবং এর প্রতিটি পয়সা সঠিক খাতে ব্যয় করা প্রশাসনিক দায়িত্ব।
খাল পুনঃখননের ফলে স্থানীয় কৃষকরা ইতোমধ্যে সুফল পেতে শুরু করেছেন। এর ফলে শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে এবং বর্ষায় জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমবে। এছাড়া খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ফিরে আসায় মাছের প্রাকৃতিক আবাসস্থলও পুনরুদ্ধার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সালথা প্রেসক্লাবের সভাপতি নুরুল ইসলাম নাহিদ এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, কাজের গুণগত মান ঠিক রেখে টাকা ফেরত দেওয়ার ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, সৎ ও দক্ষ নেতৃত্ব থাকলে জনগণের অর্থের সঠিক ব্যবহার সম্ভব। এটি সারাদেশের প্রশাসনের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
ফরিদপুরের সালথায় খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ শেষে সাশ্রয় হওয়া ৭৩ লাখ ৩৬ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়ে সততার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে উপজেলা প্রশাসন।



0 মন্তব্যসমূহ