বিশ্বসাহিত্যের মতো বাংলা উপন্যাসেও নদী এক অপরিহার্য ও নান্দনিক প্রবাহ হিসেবে স্থান পেয়েছে। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদ্মা নদীর মাঝি, অদ্বৈত মল্লবর্মণের তিতাস একটি নদীর নাম এবং আলাউদ্দীন আল আজাদের কর্ণফুলী উপন্যাসে নদী কেবল একটি ভৌগোলিক উপাদান নয়, বরং তা মানুষের জীবন ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। নদী যেমন সভ্যতার সূচনা ও বিকাশে ভূমিকা রাখে, তেমনি তার রুদ্ররূপে মানুষের সর্বস্ব কেড়ে নেয়। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের চন্দ্রশেখর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নৌকাডুবি এবং শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের শ্রীকান্ত উপন্যাসে নদীকেন্দ্রিক সাধারণ মানুষের যাপিত জীবনের সুখ-দুঃখের চিত্র ফুটে উঠেছে। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইছামতি এবং তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাঁসুলী বাঁকের উপকথা উপন্যাসেও নদীর প্রভাব অনস্বীকার্য। বিশেষ করে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীকে কেন্দ্র করে আলাউদ্দীন আল আজাদের লেখায় উঠে এসেছে এই অঞ্চলের মানুষের সংগ্রাম, স্বপ্ন ও বিবর্তনের কথা। এছাড়া আবু ইসহাকের পদ্মার পলিদ্বীপ, হুমায়ুন কবিরের নদী ও নারী এবং দেবেশ রায়ের তিস্তাপারের বৃত্তান্ত উপন্যাসে নদীকে জীবন, মৃত্যু ও সামাজিক বাস্তবতার প্রতীক হিসেবে দেখানো হয়েছে। নদীকেন্দ্রিক এই সাহিত্যকর্মগুলো মানুষের অস্তিত্বের লড়াই ও লোকজ সংস্কৃতির এক অনন্য দলিল।
বাংলা উপন্যাসে নদী কেবল জলধারা নয়, বরং জীবন ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। পদ্মা, তিতাস ও কর্ণফুলীর মতো নদীগুলোকে কেন্দ্র করে রচিত কালজয়ী সাহিত্যকর্ম নিয়ে আমাদের এই বিশেষ আয়োজন।


0 মন্তব্যসমূহ