ইসলামি জীবনদর্শনে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করাকে অন্যতম শ্রেষ্ঠ মানবিক গুণ ও ইবাদত হিসেবে গণ্য করা হয়। এটি কেবল সামাজিক শিষ্টাচার নয়, বরং পরকালীন মুক্তির একটি বড় মাধ্যম। প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক ইলিয়াস মশহুদ এ প্রসঙ্গে জানান, প্রতিশ্রুতি বা ওয়াদা রক্ষার বিষয়টি সরাসরি আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতার সঙ্গে জড়িত। পবিত্র কোরআনের সুরা বনি ইসরাইলের ৩৪ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা প্রতিশ্রুতি পালনের ব্যাপারে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন।
ইসলামি শরিয়তে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করাকে মোনাফেকির লক্ষণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সহিহ বুখারি ও মুসলিমের হাদিস অনুযায়ী, মোনাফেকের তিনটি প্রধান নিদর্শনের একটি হলো ওয়াদা ভঙ্গ করা। এছাড়া সুরা আলে-ইমরানে বলা হয়েছে, যারা তুচ্ছ স্বার্থে প্রতিশ্রুতি ও শপথ ভঙ্গ করে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের প্রতি করুণার দৃষ্টি দেবেন না এবং তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি অপেক্ষা করছে।
প্রতিশ্রুতি রক্ষার গুরুত্ব এতটাই বেশি যে, শিশুদের সঙ্গে করা ওয়াদাও পূর্ণ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। সুনান আবু দাউদের একটি হাদিসে উল্লেখ আছে, নবীজি (সা.) এক মাকে তার সন্তানকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষার নির্দেশ দিয়েছিলেন, অন্যথায় তা মিথ্যা হিসেবে গণ্য হতো। তাই কোনো বিষয়ে অঙ্গীকার করার আগে নিজের সামর্থ্য বিবেচনা করা এবং কোনো কারণে তা রক্ষা করতে না পারলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আগেভাগেই বিনয়ের সঙ্গে অবগত করা মুমিনের বৈশিষ্ট্য।
ইসলামে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওয়াদা ভঙ্গ করা মোনাফেকির লক্ষণ। পরকালে এর জন্য কঠিন জবাবদিহি করতে হবে। এমনকি শিশুদের দেওয়া ছোট প্রতিশ্রুতিও রক্ষা করা মুমিনের দায়িত্ব।



0 মন্তব্যসমূহ