টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলসহ বিভিন্ন জেলায় ভয়াবহ বন্যায় এ পর্যন্ত ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের ৫৯টি উপজেলা প্লাবিত হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৬ লাখ ৯ হাজার ৪১১ জন মানুষ। বর্তমানে বানের পানি কমতে শুরু করলেও পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন দেড় লাখেরও বেশি পরিবার। বন্যার পানি নামার সাথে সাথে বিভিন্ন স্থানে ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতচিহ্ন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার নতুন পাড়ার আম চাষিরা ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছেন। বাগান থেকে পানি নামলেও পচে যাওয়া আমের কারণে তারা দুশ্চিন্তায় আছেন। হবিগঞ্জ সদরের সুঘর গ্রামের ষাটোর্ধ্ব রানী দেব জানান, বন্যায় তার বসতঘরটি ভেঙে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে তিনি এখন আশ্রয়হীন। এদিকে রাঙামাটিতে অন্তত ১৩১টি স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে এবং বান্দরবানে কৃষি ও যোগাযোগ খাতে প্রায় ১০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, জাতীয় সংসদে চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সরকারি দল বিএনপির সংসদ সদস্য মো. শাহাদাত হোসেন। ডেনমার্কভিত্তিক কোম্পানি এপিএম টার্মিনালসের সাথে করা এই চুক্তিকে তিনি অসম ও তড়িঘড়ি করা বলে অভিহিত করেছেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এক অনুষ্ঠানে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে পরিবেশ রক্ষায় কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। রাজধানীতেও অতিবৃষ্টিতে ১২৯টি স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে এবং উচ্চশিক্ষিত তরুণদের একটি বড় অংশ বিদেশে গিয়ে আর ফিরছে না বলেও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
টানা বর্ষণ ও বন্যায় দেশে ৫৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। চট্টগ্রামসহ সাত জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৬ লাখ মানুষ। পানি কমলেও ঘরবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে চরম সংকটে বানভাসিরা।



0 মন্তব্যসমূহ