রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় বর্তমানে পাট কাটা, জাগ দেওয়া এবং আঁশ ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক-কৃষাণীরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং বাজারে পাটের আশানুরূপ দাম পাওয়ায় স্থানীয় চাষিদের মধ্যে স্বস্তি বিরাজ করছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও চরাঞ্চলে এবার পাটের ব্যাপক আবাদ হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মাঠ থেকে শুরু করে নদীর তীর ও বাড়ির আঙিনায় সোনালি আঁশ শুকানোর ধুম পড়েছে। পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও দলবদ্ধভাবে আঁশ ছাড়ানোর কাজ করছেন। নারী শ্রমিকরা জানান, এই কাজের বিনিময়ে তারা অনেক সময় নগদ মজুরি বা জ্বালানি হিসেবে পাটখড়ি পান, যা তাদের বাড়তি আয়ের উৎস।
চাষিদের তথ্যমতে, প্রতি বিঘা জমিতে পাট চাষ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা খরচ হয়। এবার প্রতি বিঘায় ১০ থেকে ১২ মণ পাট উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে স্থানীয় বাজারে প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভালো দাম পাওয়ায় আগামীতে চাষের পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন কৃষকরা।
গোয়ালন্দ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৪ হাজার ২২০ হেক্টর জমিতে তোষা জাতের পাট চাষ হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ রায়হানুল হায়দার জানান, আবহাওয়া ভালো থাকায় এবং সময়মতো কারিগরি সহায়তা দেওয়ায় এবার পাটের মান অত্যন্ত উন্নত হয়েছে। তিনি ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান যেন কৃষকরা সারা বছর পাটের স্থিতিশীল ও ন্যায্য মূল্য পান।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে পাটের বাম্পার ফলন ও ভালো বাজারমূল্যে খুশি কৃষকরা। ৪ হাজার ২২০ হেক্টর জমিতে আবাদ হওয়া সোনালি আঁশ সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় চাষিরা।



0 মন্তব্যসমূহ