মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনার মধ্যে ইরানে টানা দশম রাতের মতো হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই হামলার মধ্যেই দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বড় ধরনের বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলা চালানোর সক্ষমতা কমিয়ে আনতেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার সময় ইরানের সিরিক, বন্দর আব্বাস, কেশম দ্বীপ ও ইসফাহানে বিস্ফোরণ ঘটে। দক্ষিণ ইরানের হরমোজগান প্রদেশের সিরিক শহরের কাছেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু। ইরানের আধা-সরকারি বার্তাসংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট স্থান ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে তারা কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটির হিমার্স ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা লক্ষ্য করে ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এর আগে সোমবার হরমুজ প্রণালিতে গ্রিসের মালিকানাধীন দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটে। এছাড়া ওমানের লিমাহ উপকূলের কাছে আরেকটি ট্যাংকারে হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা যুক্তরাজ্য মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও)।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, মার্কিন সেনাদের ওপর যেকোনো হামলার জবাব বহুগুণ বেশি শক্তি দিয়ে দেওয়া হবে। জর্ডান ও উত্তর ইরাকে সম্প্রতি মার্কিন সেনাদের নিহতের ঘটনার প্রেক্ষিতে তিনি এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান। অন্যদিকে, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নতুন অবরোধ ঘোষণা করায় লোহিত সাগরের নৌপথ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা চরম হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ইরানে টানা দশম রাতের মতো হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টা জবাবে কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনায় অস্থির মধ্যপ্রাচ্য।



0 মন্তব্যসমূহ