সরকার পরিবর্তনের দীর্ঘ সময় পার হলেও বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ভারতের আরোপিত বিভিন্ন শর্ত ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হওয়ায় বেনাপোল স্থলবন্দরের রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে। সর্বশেষ অর্থবছরে এই বন্দর দিয়ে রপ্তানি কমেছে প্রায় ১ লাখ ৮৯ হাজার ৩৫৮ মেট্রিক টন। এর ফলে দেশের অর্থনীতি ও রপ্তানি বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার পাশাপাশি অনেক সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে এবং বিপুল সংখ্যক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। বেনাপোল ও পেট্রাপোল বন্দর এলাকায় পরিবহন, গুদাম ও হ্যান্ডলিং ব্যবসায় স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
বন্দরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭২ মেট্রিক টন, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কমে ৩ লাখ ৮১ হাজার ৪৪০ মেট্রিক টনে দাঁড়ায়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা আরও আশঙ্কাজনকভাবে কমে ১ লাখ ৯২ হাজার ৮২ মেট্রিক টনে নেমেছে। আগে স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০ ট্রাক পণ্য রপ্তানি হলেও বর্তমানে তা ২০ থেকে ১০০ ট্রাকের নিচে নেমে এসেছে। অন্যদিকে ভারত থেকে পণ্য আমদানিও আগের তুলনায় প্রায় অর্ধেক হয়ে গেছে।
বাণিজ্য সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২৫ সালের ৮ এপ্রিল থেকে ভারতের আকাশপথ ব্যবহার করে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি বন্ধ করে দেয় ভারত। পরবর্তীতে মে মাসে গার্মেন্টস, আসবাবপত্র ও ফল এবং জুনে পাটজাত পণ্য রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। সর্বশেষ ১১ আগস্ট বস্ত্র ও পাটজাত আরও চার ধরনের পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয় ভারত। অন্যদিকে, দেশীয় শিল্প রক্ষায় বাংলাদেশ সরকারও স্থলপথে ভারত থেকে সুতা আমদানি নিষিদ্ধ করেছে।
বেনাপোল আমদানি-রপ্তানি সমিতির সহ-সভাপতি আমিনুল হক বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও ভারত নিষেধাজ্ঞা ও শর্ত প্রত্যাহার না করায় বাণিজ্যে বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে। বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে ভারতের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিকল্প বাজার সম্প্রসারণে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান। বেনাপোল ল্যান্ডপোর্ট ইমপোর্টার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মতিয়ার রহমান নেপাল ও ভুটানে রপ্তানি বাড়ানোর ওপর জোর দেন। বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) শামিম হোসেন জানান, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল কমে যাওয়ায় রাজস্ব আয়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বাণিজ্য স্বাভাবিক করতে দুই দেশের সরকারি পর্যায়ে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।
ভারতের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ও পাল্টাপাল্টি বিধিনিষেধের কারণে বেনাপোল স্থলবন্দরের রপ্তানি বাণিজ্যে ধস নেমেছে। এতে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ী ও বন্দর সংশ্লিষ্ট শ্রমিকরা।



0 মন্তব্যসমূহ