
বিশেষ প্রতিবেদক।।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকায়
কক্সবাজার শালিক রেস্তোরাঁর জিএম মুজিবুর রহমানকে অপহরণ করে তিন দিন ধরে আটকে রেখে নির্যাতন, মুক্তিপণ আদায়, চেতনানাশক ইনজেকশন প্রয়োগ এবং আপত্তিকর ভিডিও ধারণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনকে আসামি করে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলাটি করেছেন কক্সবাজারের বাসিন্দা ও বেসরকারি চাকরিজীবী মুজিবুর রহমান (৪২)। গত ১৬ মে রাতে দায়ের করা মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩৪২, ৩২৩, ৩০৭, ৩৮৫, ৩৮৬, ৩২৮, ৩৭৯, ১০৯ ও ৩৪ ধারাসহ পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ৮(১)/৮(২) ধারা যুক্ত করা হয়েছে। শেরে বাংলা নগর থানার মামলা নং-১৬, জিআর-৯৭, তারিখ- ১৬/৫/২০২৬.
মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে
কক্সবাজার কলাতলি শালিক রেস্তোরাঁর মালিক নাসির উদ্দিনকে। এছাড়া কক্সবাজার পলিটেকনিক স্কুল এন্ড কলেজের সাবেক ছাত্র লীগ সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, নাসির উদ্দীনের স্ত্রী লাভলী আকতার, হেলাল উদ্দিন, মোঃ মনির, মেহেদী হাসান শাওন, তৌফিক হাসান, হিমেল সহ ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে ভুক্তভোগী মুজিবুর রহমানকে কক্সবাজার থেকে ঢাকায় আনা হয়। পরে রাজধানীর ইন্দিরা রোড গার্মেন্টস গলি এলাকার মেট্রো গার্ডেন ভবনের ৬ষ্ঠ তলার একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৮ মে রাত ১০টা থেকে ১০ মে দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে তাকে মারধর ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়। লোহার রড, লাঠিসোটা এবং কিল-ঘুষি দিয়ে হামলা চালিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
মামলার বর্ণনায় বলা হয়, আসামিরা তাকে হত্যার ভয় দেখিয়ে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা না দিলে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোন ব্যবহার করে তার ব্যাংক হিসাব থেকে কয়েক দফায় মোট ৩ লাখ ২১ হাজার টাকা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। এর মধ্যে প্রধান আসামির ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবেও টাকা পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়, যাতে তিনি কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারেন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, নির্যাতনের একপর্যায়ে আসামিরা ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্ন 'স্বীকারোক্তিমূলক' বক্তব্য দিতে বাধ্য করে এবং তা মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে। এমনকি তাকে বিবস্ত্র করে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার বিষয় কাউকে জানালে এসব ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার তথ্যমতে, ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোন বন্ধ পেয়ে তার স্ত্রী একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে প্রধান আসামির মোবাইল নম্বরে ফোন করলে তার কাছেও ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
ভুক্তভোগীর ভাই যোগাযোগ করলে তাকেও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, এক আসামি কয়েক দফায় ভুক্তভোগীর শরীরে ইনজেকশন পুশ করে তাকে অচেতন অবস্থায় নির্যাতন চালায়। একইসঙ্গে কক্সবাজারে অবস্থানরত কয়েকজন আসামি ভুক্তভোগীর পরিবারের গতিবিধি নজরদারি ও তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে ঘটনাটিতে সহযোগিতা করেছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, কক্সবাজারে ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে তৎপরতা শুরু হলে এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি প্রচারিত হলে আসামিরা পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ভুক্তভোগীকে ছেড়ে দেয়।
পরে তাকে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিয়ে কক্সবাজারগামী বিমানে তুলে দেওয়া হয়। কক্সবাজার পৌঁছানোর পর পরিবারের সদস্যরা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
শেরেবাংলা নগর থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

0 মন্তব্যসমূহ