চট্টগ্রামে জমি দখলের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

গাজী গোফরান: চট্টগ্রাম আনোয়ারা সদরে  জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা, পাকা বাড়ি ভাংচুর, গাছ কর্তন ও সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা করে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়ার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। শুক্রবার রাত ৮ টায় নগরীর মোমিন রোডস্থ চট্টগ্রাম সাংবাদিক সংস্থার হলে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে আনোয়ারা উপজেলার আনোয়ারা মৌজায় ৫১০ নং খতিয়ানের ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া পৈত্রিক সম্পত্তি সাড়ে সাত গন্ডা জমি দখলদার থেকে রক্ষা, চেয়ারম্যান কর্তৃক মিথ্যা ওয়ারিশ সনদ বাতিল, ও সুষ্ঠু বিচারে দাবি জানান  ভুক্তভোগী উজ্জ্বল দাশ ও তার স্ত্রী স্বপ্না দাশ।


লিখিত বক্তব্যে উজ্জ্বল দাশ বলেন, আমার বাবা মৃত দেবেন্দ্র শুক্ল দাশ। আমি সহ তার পাঁচ সন্তান। দুলাল শুক্ল দাশ, নেপাল শুক্ল দাশ, সজল শুক্ল দাশ, কাজল শুক্ল দাশ ও উজ্জ্বল শুক্ল দাশ। এই পাঁচ জনের মধ্যে সজল শুক্ল দাশ ও কাজল শুক্ল দাশ অবিবাহিত অবস্থায় মারা যান। কাজেই তাদের কোন ওয়ারিশ নেই। তাই ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া বাবার সম্পত্তি আমরা তিন ভাই ভোগ করছি।


১৯৯৬ সালে আমার ভাই সজল শুক্ল দাশ অবিবাহিত অবস্থায় মারা গেলেও হঠাৎ এত বছর পর সাতকানিয়ায় স্থায়ী বসবাসরত বিদু বালা দাশ ও চ্যালেঞ্জ দাশ নামের অজ্ঞাত দুই ব্যক্তি যথাক্রমে নিজেদের স্ত্রী ও পুত্র দাবি করছে। এমনকি তৎকালীন ৭ নং আনোয়ারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ছৈয়দ ও ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সন্তোষ চক্রবর্তীকে অন্যায়ভাবে বশীভুত করে নিজেদের স্ত্রী পুত্র দাবী করে ২০১৫ সালের ৫ আগস্ট কোন তদন্ত ও যাচাই বিহীন একটি  ওয়ারিশ সনদ তৈরি করে নেন। তবে আসল সত্য এই যে, চ্যালেঞ্জ দাশের বাবা ও বিধুবালা দাশের প্রকৃত স্বামী পরিতোষ ধর। আমার ভাই বিবাহিত ছিলেন না।


আমার ভাই ১৯৯৬ সালে মারা গেলে ১৯৯৭ সালে আনোয়ারা ৭ নং সদর ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান আবুল কালাম একটি ওয়ারিশ সার্টিফিকেট ইস্যু করেন। যেখানে আমার ভাই সজল দাশ অবিবাহিত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়।এরপর ২০১৩ সালের ৪ মে আগের চেয়ারম্যানের মতো একইভাবে সজল দাশকে অবিবাহিত উল্লেখ করে তৎকালীন চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ছৈয়দ ও ইউপি সদস্য সন্তোষ চক্রবর্তীর যৌথ স্বাক্ষরিত আরো একটি ওয়ারিশ সনদ ইস্যু করা হয়।   কিন্তু হঠাৎ দু'বছর পর ২০১৫ সালের ১৩ এপ্রিল একই চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সৈয়দ আগের সুর বদলে সজল দাশের স্ত্রী সন্তান আছে দেখিয়ে তার একক স্বাক্ষরে আরো একটি ওয়ারিশ সনদ ইস্যু করেন। যা টাকা লেনদেন হয়েছে বলে প্রতিয়মান হয়।


তারা আনোয়ারার ভূমিদস্যুদের সাথে সিন্ডিকেট করে আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি দখলের লক্ষ্যে বানোয়াট খতিয়ান তৈরি করতেও দ্বিধা করেননি। পরবর্তীতে এই খতিয়ান দেখিয়ে প্রতারণাপূর্বক প্রবাসী আইয়ুব আলীর স্ত্রী ইয়াছমিন আক্তারকে যায়গার রেজিস্ট্রী দেন প্রতারক মা-ছেলে। তারপর থেকে সন্ত্রাসী কায়দায় আমার পাকা বাড়ি ভাংচুরসহ গাছপালা কেটে ফেলা হয়। চারদিকে দেওয়াল দিয়ে জায়গা দখলে নেন প্রবাসী আইয়ুব আলী ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীরা। এ ঘটনায় আমার স্ত্রী তার স্মার্ট ফোনে প্রতিটি ঘটনার ভিডিও ধারণ করে। একদিন আমার বাড়ি ভাংচুরের সময় আমার বৃদ্ধ শাশুড়ি ভিডিও ধারণ করলে সন্ত্রাসীরা দেখে ফেলে। তারপর এই বৃদ্ধাকে মারধর ও জখম করে করে মোবাইল ছিনিয়ে নেন আইয়ুব আলীর ভাড়া করা সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক থানায় গেলে ওসি সোহেল আহমেদ বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি। পরে সন্ত্রাসীরা মোবাইল ফ্লাশ মেরে প্রয়োজনীয় সকল ডকুমেন্টস মুছে চার দিন পর মোবাইলটি ফেরত দেয়।


স্বপ্না দাশ বলেন, তারা আদালতে মামলা করেও ঘটনা প্রমাণ করতে না পারায় আদালত মামলা খারিজ করে দেন। পরে আমরা তাদের বিরুদ্ধে আদালতে দুটি মামলা দায়ের করি। যেখানে আসামি করা হয়েছে মৃত পরিতোষ ধরের ছেলে চ্যালেঞ্জ ধর, বিধু রানী ধর ও সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সৈয়দকে।


কান্না জড়ানো বন্ধু তিনি আরো বলেন, পুরো এলাকার মানুষ জানে আমার ভাসুর অবিবাহিত ছিলেন। কিন্তু কোন সালিশি বৈঠকে এলাকাবাসীর একথা কেউ শুনতে চায় না। বৈঠকে উপস্থিত সবাই একতরফা কথা বলেন। এমনকি আইয়ুব আলী বর্তমান চেয়ারম্যান মহোদয়ের উপস্থিতিতে আমার স্বামীকে হুমকি প্রদান করে বলেন, বেশি বাড়লে তোকে ইয়াবা দিয়ে চালান দিয়ে দিব। তোর বউকে যদি হিজড়া লাগিয়ে টর্চার করি তখন কি করবি?


প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি আমাদের একমাত্র ভরসা ও রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অভিভাবক। আপনার সুদৃষ্টি পেলে আমরা ন্যায় বিচার পেতে পারি। এছাড়া এ গরীব পরিবারের পক্ষে ন্যায় বিচার পাওয়া কখনোই সম্ভব নয়। আবেদন একটাই, আমরা আইনিভাবে লড়তে প্রস্তুত কিন্তু সন্ত্রাসী হামলা করে যেন আমাদের আর নির্যাতন করা না হয়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ